Anti Gyanesh Protest: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে!

এক জন মহিলা সাংবাদিকের আরও গুরুতর অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর এক সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশের আটক করার ছবি ও ভিডিয়ো করার সময় ওই আধিকারিক তাঁকে অশোভন ভাবে স্পর্শ করেন এবং পরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

Published on: Oct 4, 2026, 12:32:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ল। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, আটক এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এ বার তিন মহিলা সাংবাদিক যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন দিল্লি পুলিশের কয়েক জন কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এক জন মহিলা সাংবাদিকের আরও গুরুতর অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর এক সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন। (RAJ K RAJ /HT PHOTO)
এক জন মহিলা সাংবাদিকের আরও গুরুতর অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর এক সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন। (RAJ K RAJ /HT PHOTO)

৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন ওই সাংবাদিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে অনুচিত আচরণ করেন এবং শরীরে আপত্তিকর ভাবে হাত দেন। এক জন মহিলা সাংবাদিকের আরও গুরুতর অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর এক সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশের আটক করার ছবি ও ভিডিয়ো করার সময় ওই আধিকারিক তাঁকে অশোভন ভাবে স্পর্শ করেন এবং পরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার পর তাঁরা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় কয়েক জন স্বাধীন সাংবাদিক এবং সমাজমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে জড়ো হন। তাঁদের দাবি ছিল, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে হবে।

পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, অভিযোগগুলি গুরুতর হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন ছিল। বিক্ষোভের সময় নিউ দিল্লি জেলা এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বহু পুলিশ কর্মী ঘটনাস্থলে দায়িত্বে ছিলেন। ফলে একই এলাকার পুলিশকে দিয়ে অভিযোগের তদন্ত করালে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই তিন মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগ ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক। তদন্তে অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হবে, পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরেও কেন সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর করা হল না। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। তাই পুলিশি আচরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব দেওয়া উচিত। বিক্ষোভকারীদের আটক করা, সাংবাদিকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও একই ধরনের অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, আন্দোলনের সময় মহিলা বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের সঙ্গে পুরুষ পুলিশ কর্মীরা দুর্ব্যবহার করেন। কয়েক জন মহিলা আন্দোলনকারীও পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ করেছেন বলে সংগঠনটির দাবি।

অন্য দিকে, গোটা বিক্ষোভের পটভূমিতে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। ৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশের তরফে বিক্ষোভ ঘিরে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

এখন মূল নজর ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তে। তিন মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়, এফআইআর দায়ের হয় কি না এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার। একই সঙ্গে যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশ এবং সাংবাদিকদের সংঘাতও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More