Apache helicopter crashed: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আরোপিত অবরোধ মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি প্রথম অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা।
Apache helicopter crashed: ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছে। তবে হেলিকপ্টারে থাকা ক্রু সদস্যদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালীর কাছে ভেঙে পড়ল অ্যাপাচি হেলিকপ্টার (REUTERS)
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর এই শক্তিশালী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। তবে ওই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও সমস্যায় পড়েছিল- তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও ইজরায়েল সোমবার একে অপরের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে ইরান যুদ্ধের চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং তা স্থায়ী করার আলোচনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি নতুন করে শঙ্কা বাড়িয়েছে।
এনবিএ ফাইনালের একটি খেলা দেখার পর নিউ ইয়র্ক ছাড়ার আগে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুর্ঘটনাটির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘পাইলটরা ভালো আছেন, হ্যাঁ। কেউ আহত হননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আগামীকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করব।’ তবে হেলিকপ্টারটি ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে নাকি কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), হোয়াইট হাউস বা দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেয়নি। হেলিকপ্টারটি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল নাকি অন্য কোনও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আরোপিত অবরোধ মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি প্রথম অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা। একই সময়ে ইরান দাবি করেছে, তারা ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সাধারণত টহল ও নজরদারি মিশনে ব্যবহৃত হলেও, সম্প্রতি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো আরও গভীর এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে, যা সেন্টকমের আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রদর্শনের প্রচেষ্টার অংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রবিবার সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুটি ইরানি ড্রোন তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী ইরানের যে কোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়।