Apple Pay India Launch: অনলাইনে টাকা পেমেন্টের (Online Payment) জন্য পেটিএম (Paytm), ফোনপে (Phonepe), গুগল পে (Gpay) ব্যবহার করেন। তবে, জানেন কী ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারে এবার প্রবেশ করতে পারে অ্যাপলের জনপ্রিয় পেমেন্ট পরিষেবা অ্যাপল পে (Apple Pay)। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অ্যাপল পে চালু হওয়ার জল্পনা থাকলেও এখনও পর্যন্ত পরিষেবাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ দেশে শুরু করেনি অ্যাপল। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী অক্টোবরেই ভারতে অ্যাপল পে চালু করতে পারে কুপারটিনোর প্রযুক্তি সংস্থা। শুরুতে পরিষেবাটিতে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড যুক্ত হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অ্যাপলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
১. অ্যাপল পে কী ও কীভাবে হবে পেমেন্ট?

অ্যাপল পে এমন একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আইফোন ব্যবহারকারীরা কোনও পৃথক পেমেন্ট অ্যাপ না খুলেই ডিভাইসে সংরক্ষিত টোকেনাইজড কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি 'ট্যাপ-অ্যান্ড-পে' (ট্যাপ করে লেনদেন) করতে পারবেন। আপনার আসল কার্ড নম্বরের বদলে এখানে একটি অনন্য গোপন 'টোকেন' ব্যবহৃত হয়, ফলে বিক্রেতা বা মার্চেন্ট কখনই আপনার আসল কার্ডের তথ্য দেখতে পান না। ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে অ্যাপল 'ওয়ালেট' (Wallet) অ্যাপে নিজের ক্রেডিট কার্ড যুক্ত করতে হবে। এরপর কোনও কন্ট্যাক্টলেস পিওএস টার্মিনালে নিজের আইফোন বা অ্যাপল ওয়াচটি সামান্য স্পর্শ বা কাছে এনে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। গ্রাহক ফেস আইডি (Face ID), টাচ আইডি (Touch ID) কিংবা ডিভাইসের পাসকোড দিয়ে এই লেনদেনের অনুমোদন (অথেনটিকেশন) দেবেন। এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে 'ওয়ান-ট্যাপ' কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এটি কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২. ভারতে আসতে এত দেরি হলো কেন?
এর নেপথ্যে মূলত দুটি বড় বাধা ছিল: নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ। নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) গত বছর কার্ড পেমেন্টে বায়োমেট্রিক অনুমোদনের ছাড়পত্র দিয়েছে, যার ফলেই ফেস আইডি ও টাচ আইডির মাধ্যমে ভারতীয় ব্যাঙ্কের কার্ড দিয়ে অ্যাপল পে চালু করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটি ট্রানজ্যাকশনে ইন্টারচেঞ্জ ফি থেকে ১৫-২০ বেসিস পয়েন্টের অংশ চেয়েছিল অ্যাপল। কিন্তু ভারতের বড় বড় ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ১০ বেসিস পয়েন্ট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এই ফি গ্রাহক বা ব্যবসায়ীদের থেকে সরাসরি নেওয়া হয় না, বরং ব্যাঙ্কগুলি তাদের নিজস্ব আয় থেকেই তা মেটায়। এই বাণিজ্যিক বোঝাপড়ার টানাপোড়েনের কারণেই ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে চালুর প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা পিছিয়ে যায়।
৩. কোন কোন ব্যাঙ্ক ও কার্ড সাপোর্ট করবে?
{{/usCountry}}এর নেপথ্যে মূলত দুটি বড় বাধা ছিল: নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ। নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) গত বছর কার্ড পেমেন্টে বায়োমেট্রিক অনুমোদনের ছাড়পত্র দিয়েছে, যার ফলেই ফেস আইডি ও টাচ আইডির মাধ্যমে ভারতীয় ব্যাঙ্কের কার্ড দিয়ে অ্যাপল পে চালু করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটি ট্রানজ্যাকশনে ইন্টারচেঞ্জ ফি থেকে ১৫-২০ বেসিস পয়েন্টের অংশ চেয়েছিল অ্যাপল। কিন্তু ভারতের বড় বড় ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ১০ বেসিস পয়েন্ট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এই ফি গ্রাহক বা ব্যবসায়ীদের থেকে সরাসরি নেওয়া হয় না, বরং ব্যাঙ্কগুলি তাদের নিজস্ব আয় থেকেই তা মেটায়। এই বাণিজ্যিক বোঝাপড়ার টানাপোড়েনের কারণেই ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে চালুর প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা পিছিয়ে যায়।
৩. কোন কোন ব্যাঙ্ক ও কার্ড সাপোর্ট করবে?
{{/usCountry}}রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে অ্যাপল পে চালু করার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। প্রাথমিক পর্যায়ে সংস্থাটি অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘ট্যাপ-অ্যান্ড-পে’ পরিষেবা চালু করতে পারে। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ছাড়াও ভারতে আরও বড় ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে অ্যাপল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, এসবিআই ব্যাঙ্ক এবং আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাপলের প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক শর্তে এখনও সম্মতি দেয়নি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক। ফলে প্রথম পর্যায়ে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড দিয়েই পরিষেবাটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যাপল ভবিষ্যতে আরও ব্যাঙ্ককে অ্যাপল পে-র আওতায় আনতে পারে। এর জন্য প্রতিটি ব্যাঙ্কের সঙ্গে আলাদা চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য বাজারেও ধাপে ধাপে ব্যাঙ্ক যুক্ত করার যে পদ্ধতি অ্যাপল ব্যবহার করেছে, ভারতেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে।
৪. ডেবিট কার্ড, রুপে কিংবা ইউপিআই কী ব্যবহার করা যাবে?
শুরুতে সম্ভবত নয়। এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে অ্যাপল পে-র প্রাথমিক সংস্করণে ভিসা এবং মাস্টারকার্ড নেটওয়ার্কের ক্রেডিট কার্ড সমর্থন করতে পারে অ্যাপল। ভারতের বড় ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে অ্যাপল কতটা রাজস্ব পাবে, সেই বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে অ্যাপল পে-র মাধ্যমে হওয়া কনট্যাক্টলেস লেনদেন থেকে রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
৫. গুগল পে ও ফোনপে-র মতো ইউপিআই অ্যাপের চেয়ে কতটা আলাদা?
ইউপিআই অ্যাপের মাধ্যমে এনপিসিআই-এর রিয়েল-টাইম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা যায়। কিন্তু আইফোনের ট্যাপ পেমেন্ট সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হয় না। অ্যাপল পে কাজ করে ভিসা বা মাস্টারকার্ড নেটওয়ার্কের টোকেনাইজড কার্ডের মাধ্যমে। যেহেতু আপনি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করছেন, তাই কার্ডের যাবতীয় রিওয়ার্ড পয়েন্ট, বিলিং সাইকেলের সুবিধা এবং কোনও সমস্যা হলে ডিসপিউট নিষ্পত্তির অধিকার বজায় থাকবে। খরচের দিক থেকেও তফাত রয়েছে। ইউপিআই গ্রাহকের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি এবং ব্যবসায়ীদের জন্যও অত্যন্ত সাশ্রয়ী। তুলনায় কার্ড পেমেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছে কিছুটা ব্যয়বহুল, যে কারণেই ইন্টারচেঞ্জ ফি নিয়ে ব্যাঙ্ক ও অ্যাপলের মধ্যে দর কষাকষি এত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ইউপিআই কী ইতিমধ্যেই ট্যাপ-টু-পে সুবিধা দিচ্ছে না?
হ্যাঁ, দিচ্ছে। মাত্র ১০ দিন আগেই মুম্বইয়ে 'গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট'-এ 'ইউপিআই ট্যাপ অ্যান্ড পে' (UPI Tap & Pay) চালু করেছে এনপিসিআই। সেখানে উপযুক্ত স্মার্টফোন আনলক করে এনএফসি (NFC) টার্মিনালে স্পর্শ করলেই অ্যাপ খোলা বা ইন্টারনেট ছাড়াই পেমেন্ট হয়ে যায়; এমনকী ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে পিন দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। ফলে অ্যাপল পে এমন একটি বাজারে প্রবেশ করছে যা আগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরপুর। ভারতের মোট ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৮৪ শতাংশই এখন ইউপিআই-এর দখলে। তাই অ্যাপলের মূল লক্ষ্য মূলত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী এবং বিশেষ করে প্রিমিয়াম গ্রাহকদের আরও মসৃণ ও অত্যন্ত নিরাপদ পেমেন্টের অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।
৭. অ্যাপল পে দিয়ে কী অ্যান্ড্রয়েড ফোনে টাকা পাঠানো যাবে?
না, এবং অ্যাপল পে সেই কাজের জন্য তৈরিও হয়নি। এটি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দোকানে বা ব্যবসায়ীদের পেমেন্ট করার মাধ্যম, কোনও পার্সন-টু-পার্সন (P2P) টাকা পাঠানোর অ্যাপ নয়। অ্যাপলের নিজস্ব পি-টু-পি পরিষেবা 'অ্যাপল ক্যাশ' (Apple Cash) শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ এবং ভারতে তা চালু হওয়ার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। তাই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীকে কোনও বন্ধুকে টাকা পাঠাতে গুগল পে, ফোনপে বা পেটিএম-এর মতো প্রচলিত ইউপিআই অ্যাপই ব্যবহার করতে হবে।
৮. দেশের যে কোনও দোকানে কী এই সুবিধা মিলবে?
কেবল যে সমস্ত দোকানে কন্ট্যাক্টলেস বা এনএফসি-সক্ষম (NFC-enabled) সোয়াইপ মেশিন/টার্মিনাল রয়েছে, সেখানেই এটি ব্যবহার করা যাবে। যে সমস্ত ছোট ব্যবসায়ী বা ফুটপাতের দোকানিরা শুধু কিউআর (QR) কোডের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে অ্যাপল পে কাজ করবে না; কারণ শুরুতে এতে ইউপিআই কিউআর স্ক্যানের ব্যবস্থা থাকছে না। ফলে বড় শপিং মল, নামী ব্র্যান্ডের রিটেল শপ, রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর এবং অনলাইন কেনাকাটাতেই এটি সর্বাধিক কার্যকর হবে।
৯. কোন কোন অ্যাপল ডিভাইসে কাজ করবে?
আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ এবং আইপ্যাড ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাবেন। ভারতে সুনির্দিষ্ট কোন কোন মডেল এতে কাজ করবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা অ্যাপল এখনও প্রকাশ করেনি। বাণিজ্যিক উদ্বোধনের আগেই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
১০. অ্যাপ স্টোরে কেনাকাটার নিয়মে কী বদল আসবে?
আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, উপযুক্ত কার্ডধারীরা এবার সরাসরি তাঁদের কার্ডের মাধ্যমে আইক্লাউড+ (iCloud+), অ্যাপল মিউজিক সাবস্ক্রিপশন এবং অ্যাপ স্টোরের কেনাকাটার বিল মেটাতে পারবেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে এতদিন পর্যন্ত কেবল ইউপিআই, নেট ব্যাঙ্কিং বা অ্যাপল অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স টপ-আপের মাধ্যমেই ভারতীয়দের এই পেমেন্ট করতে হতো; এবার কার্ডের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটতে পারে।
২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল অ্যাপল পে
অ্যাপল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম অ্যাপল পে চালু করে। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে পরিষেবাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ভারতের বড় ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারে এখনও অ্যাপল পে-র আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি তৈরি হয়নি। এর আগে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে ভারতে অ্যাপল পে চালু হতে পারে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। নতুন রিপোর্টের অক্টোবরের সম্ভাব্য লঞ্চের তথ্য সেই জল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে অ্যাপলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত লঞ্চের তারিখ, সমর্থিত ব্যাঙ্ক এবং কার্ডের তালিকা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের আপাতত অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।