US new plans: ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা! US-এ চাকরির স্বপ্ন শেষ হতে চলেছে ভারতীয়দের? কেন জানেন?

US new plans: এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-ওয়ান বি ভিসা আবেদনের ওপর একই পরিমাণের ফি চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মার্কিন প্রযুক্তিক্ষেত্রে এর চরম প্রভাব পড়েছিল, কারণ সে দেশে কর্মরত দক্ষ বিদেশি পেশাদারদের প্রায় তিন- চতুর্থাংশই ভারতীয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত আদালতে আইনি ধাক্কা খায়।

Published on: Aug 4, 2026, 21:31:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

US new plans: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির স্বপ্ন দেখা হাজার হাজার ভারতীয়র কপালে নতুন করে উদ্বেগের ভাঁজ ফেলতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত এমন এক প্রস্তাবের কথা বিবেচনা করছে, যা কার্যকর হলে মার্কিন সংস্থাগুলির গুণতে হতে পারে বিপুল অর্থ। হোয়াইট হাউস এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও অভ্যন্তরীণ স্তরে পর্যালোচনা চলছে যে এবার থেকে বিদ্যমান ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা রিনিউ করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভিসা ফি বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এতদিন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ফি শুধুমাত্র নতুন এইচ-১বি এবং এল-১ ভিসার ক্ষেত্রেই ধার্য করা হতো।

US-এ চাকরির স্বপ্ন শেষ হতে চলেছে ভারতীয়দের?
US-এ চাকরির স্বপ্ন শেষ হতে চলেছে ভারতীয়দের?

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সে দেশে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের ধরে রাখতে ইচ্ছুক সংস্থাগুলির খরচ বহুলাংশে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারেন ভারতীয় পেশাদাররা, কারণ ২০২৫ সালে মোট এইচ-১বি ভিসা রিনিউ করার বড় অংশজুড়ে ছিলেন ভারতীয়রা। এই এক লক্ষ ডলারের অঙ্কটি খুব পরিচিত। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-ওয়ান বি ভিসা আবেদনের ওপর একই পরিমাণের ফি চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মার্কিন প্রযুক্তিক্ষেত্রে এর চরম প্রভাব পড়েছিল, কারণ সে দেশে কর্মরত দক্ষ বিদেশি পেশাদারদের প্রায় তিন- চতুর্থাংশই ভারতীয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত আদালতে আইনি ধাক্কা খায় এবং বোস্টনের একটি ফেডারেল আপিল আদালত সম্প্রতি সরকারের ওই পদক্ষেপের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। তার পরপরই সামনে এল এই সিদ্ধান্ত।

এই প্রস্তাবটি (যা আনুষ্ঠানিকভাবে 'নোটিশ অব প্রপোজড রুল-মেকিং' নামে পরিচিত) প্রথম ২০২৪ সালের জুন মাসে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এজেন্সির মাধ্যমে মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের 'ইউনিফাইড রেগুলেটরি এজেন্ডা'-য় ডিএইচএস ও অন্যান্য এজেন্সির তরফে এটিকে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা একটি নিয়ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত নিয়মাবলী প্রকাশিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি মার্কিন সরকারের অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এবং অফিস অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স (ওইআইআরএ)-এর মাধ্যমে জনসমক্ষে আনা হবে। প্রস্তাবিত খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, 'এইচ-১বি ভিসা ও এল-১ ভিসার নন-ইমিগ্র্যান্ট কর্মীদের নিয়োগকারী কিছু নির্দিষ্ট সংস্থার জন্য '৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি' প্রদান করা বাধ্যতামূলক। পাবলিক ল ১১৪-১১৩ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নিয়মাবলীতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে স্পষ্ট করছে যে, পূর্বে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত আবেদনের পাশাপাশি এবার থেকে এইচ-১বি ভিসা ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের ক্ষেত্রেও এই ৯-১১ রেসপন্স ফি প্রযোজ্য হবে।'

এই নিয়ম কার্যকর হলে, যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে কেবল নতুন এইচ-১বি ভিসা ও এল-১ ভিসা কিংবা কর্মী সংস্থা পরিবর্তন করার সময়ই নয়, বরং বিদ্যমান কর্মীদের ভিসার সাধারণ মেয়াদ বাড়াতে গেলেও এই '৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি' মেটাতে হবে। বর্তমানে কোনও সংস্থা যখন নতুন এইচ-১বি ভিসা বা এল-১ কর্মী নিয়োগ করে কিংবা কোনও বিদেশি কর্মী সংস্থা পরিবর্তন করেন, কেবল তখনই এই ফি প্রযোজ্য হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত নিয়মানুসারে, একই কর্মী সংস্থায় বহাল থাকা অবস্থায় ভিসার মেয়াদ বাড়াতে গেলেও নিয়োগকারীকে এই নির্ধারিত ফি গুণতে হবে। ৯-১১ রেসপন্স ফি-এর আওতা বৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন সংস্থাগুলিকে লক্ষ্য করে আনা হয়েছে, যাদের মোট কর্মীবাহিনীর অন্তত ৫০ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি এইচ-ওয়ানবি ও এল-ওয়ান ভিসাধারী। বর্তমানে এই সংস্থাগুলিকে প্রতিটি নতুন এইচ-১বি আবেদনের জন্য কমপক্ষে ৪,০০০ ডলার এবং নতুন এল-১ আবেদনের জন্য ৪,৫০০ ডলার গুণতে হয়। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম বলবৎ হলে, কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রেও নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে এই মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হবে হবে।

প্রস্তাবিত এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে সেই সমস্ত নিয়োগকারী সংস্থাগুলি, যারা ব্যাপকভাবে ভারতীয় পেশাদারদের ওপর নির্ভরশীল। কারণ, অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসা এক্সটেনশন বা মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের একটি বিশাল অংশজুড়ে রয়েছেন ভারতীয়রা। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে সংস্থাটি মোট ৪,০৬,৩৪৮টি এইচ-১বি আবেদন অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২,৯১,৫৪২টি (প্রায় ৭২ শতাংশ) ছিল বর্তমান চাকরিতে বহাল থাকার বা এক্সটেনশনের আবেদন। এই অনুমোদিত মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের মধ্যে ২,২৬,৩৫৯টিই ছিল ভারতীয়দের, যা মোট এইচ-১বি এক্সটেনশনের প্রায় ৭৭.৬ শতাংশ। এর ফলে, এইচ-১বি এবং এল-১ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনে অতিরিক্ত ফি ধার্য করার প্রস্তাবটি কার্যকর হলে, প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় কর্মী-বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করা পেশাদারদের বহাল রাখতে মার্কিন নিয়োগকারী সংস্থাগুলির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, এই প্রস্তাবটি বহুজাতিক সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও খরচ বাড়িয়ে দেবে, যারা বিদেশি শাখা থেকে নির্বাহী, ম্যানেজার এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বদলি করতে এল-১ ভিসা ব্যবহার করে এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করে থাকে।