Army-Navy Chiefs to leave South Block: সাউথ ব্লক ছাড়ছেন সেনা ও নৌসেনা প্রধান! স্বাধীনতার পর প্রথমবার… নয়া ঠিকানা কোথায়?

সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে সাউথ ব্লক ছেড়ে শৌর্য ভবনে যাবেন ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ এবং সাত জন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও)। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব সামলান এই আধিকারিকেরা। 

Published on: Nov 4, 2026, 09:05:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দিল্লির ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক থেকে সরে যাচ্ছে ভারতীয় সেনা ও নৌসেনার শীর্ষ নেতৃত্বের সদর দপ্তর। কয়েক দশকের পুরনো ব্যবস্থায় বদল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নভেম্বর মাসের শেষেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ এবং নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনের দপ্তর এবার নতুন ঠিকানায় যাবে। সেনাপ্রধানের নতুন ঠিকানা হবে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নবনির্মিত শৌর্য ভবন। অন্য দিকে, নৌসেনা প্রধান এবং তাঁর সহযোগী শীর্ষ আধিকারিকেরা যাবেন সেনা ভবনে। এই পরিবর্তনকে দেশের প্রতিরক্ষা প্রশাসনের কাঠামোয় বড়সড় রদবদল হিসাবে দেখা হচ্ছে। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আওতায় সরকারি দপ্তরগুলিকে নতুন ভবনে স্থানান্তরের যে পরিকল্পনা চলছে, তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই উদ্যোগ।

দিল্লির ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক থেকে সরে যাচ্ছে ভারতীয় সেনা ও নৌসেনার শীর্ষ নেতৃত্বের সদর দপ্তর (Neeraj )
দিল্লির ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক থেকে সরে যাচ্ছে ভারতীয় সেনা ও নৌসেনার শীর্ষ নেতৃত্বের সদর দপ্তর (Neeraj )

কোথায় যাচ্ছেন সেনা ও নৌসেনা প্রধান?

সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে সাউথ ব্লক ছেড়ে শৌর্য ভবনে যাবেন ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ এবং সাত জন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও)। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব সামলান এই আধিকারিকেরা। ফলে শুধু সেনাপ্রধানের দপ্তর নয়, সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক কাজের একটি বড় অংশও নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হবে।

অন্য দিকে, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনের সঙ্গেও সাউথ ব্লক ছাড়বেন ভাইস চিফ এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকেরা। তাঁদের নতুন ঠিকানা হবে সেনা ভবন। উল্লেখ্য, দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে নৌসেনার নিজস্ব ভবন নৌসেনা ভবন রয়েছে। ২০২৪ সালে এই ভবনের উদ্বোধন হয়েছিল। তবে সাউথ ব্লকে থাকা নৌসেনার শীর্ষ নেতৃত্বের দপ্তরও এবার স্থানান্তরিত হচ্ছে।

সরছে যুদ্ধ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও

এই রদবদল শুধু সেনা ও নৌসেনা প্রধানদের দপ্তরে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সাউথ ব্লক থেকে সরানো হচ্ছে সেনাবাহিনীর ওয়ার রুম বা যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্র। পাশাপাশি স্থানান্তরিত হবে ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও)-এর কার্যালয়ও। দেশের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে এই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তবে নৌসেনার ওয়ার রুম কোথায় সরানো হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, এই কেন্দ্র চালানোর জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ পরিকাঠামো এবং সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। ফলে নৌসেনার যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্র স্থানান্তরের বিষয়টি বেশ জটিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। এ ছাড়া ডিপার্টমেন্ট অফ মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স (ডিএমএ)-এর আধিকারিকেরাও সাউথ ব্লক ছাড়বেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির ডিরেক্টর জেনারেলও।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নতুন ঠিকানা কর্তব্য ভবন

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দপ্তর স্থানান্তরের কাজ অবশ্য ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং তাঁর সচিবালয় সাউথ ব্লক ছেড়ে কর্তব্য ভবন ২-এ চলে যায়। পরবর্তী পর্যায়ে মন্ত্রকের আরও কয়েকটি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর স্থানান্তরিত হয়েছে।

বর্তমানে কর্তব্য ভবন ২-এ চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের (সিডিএস) দপ্তরও রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের স্থায়ী ঠিকানা হবে কর্তব্য ভবন ৬ ও ৭। ওই ভবনগুলির নির্মাণকাজ শেষ হলে সেখানে মন্ত্রকের পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধানদের অতিরিক্ত দপ্তরও রাখা হবে। এই পরিবর্তনের ফলে আপাতত সেনাপ্রধানকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের শৌর্য ভবন থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য কর্তব্য ভবন ২-এ যেতে হবে।

ইতিহাসের অবসান

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রতিরক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল সাউথ ব্লক। স্বাধীনতার পর থেকে সেনা ও নৌসেনার শীর্ষ নেতৃত্বের দপ্তর এই ভবনে ছিল। এবার সেই পুরনো ব্যবস্থার অবসান হতে চলেছে। কেন্দ্রের বৃহত্তর পরিকল্পনা হল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং তিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলিকে নতুন পরিকাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। এর ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More