LPG Cylinders Floating: জানা গেছে, রায়গড়ের পানভেল তালুকের চাভানে গ্রামে রয়েছে এইচপিসিএলের পাতালগঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট। প্রবল বর্ষণে প্ল্যান্টের ভিতরে জল ঢুকে পড়ে। জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার স্রোতে ভেসে নদীতে চলে যায়।
LPG Cylinders Floating: দেশজুড়ে মৌসুমি বৃষ্টির দাপটে একাধিক রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেরলে ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশেও একই ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির জেরে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এইচপিসিএলের পাতালগঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট। তার জেরেই প্রায় তিন হাজার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বন্যার জলে ভেসে যায় গেছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। পাতালগঙ্গা নদীতে সিলিন্ডার ভেসে যাওয়ার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, রায়গড়ের পানভেল তালুকের চাভানে গ্রামে রয়েছে এইচপিসিএলের পাতালগঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট। প্রবল বর্ষণে প্ল্যান্টের ভিতরে জল ঢুকে পড়ে। জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার স্রোতে ভেসে নদীতে চলে যায়। প্রশাসনের অনুমান, ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। এর মধ্যে কিছুতে গ্যাস ভর্তি ছিল, আবার কিছু খালিও ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রবল স্রোতের টানে একের পর এক সিলিন্ডার নদীর জলে ভেসে যাচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বন্যার জলে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডার নদীর তীরে বা আশপাশের এলাকায় পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নদীতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলির ভিতরে গ্যাস রয়েছে কিনা, অথবা সেগুলি কতটা নিরাপদ-তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই কোনও অবস্থাতেই ওই সিলিন্ডার ধরার, সরানোর বা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। রায়গড়ের জেলাশাসক কিশন জাভালে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন, নদীতে বা নদীর তীরে পড়ে থাকা কোনও গ্যাস সিলিন্ডারের কাছে যেন কেউ না যান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনও পরিস্থিতিতেই সিলিন্ডার তুলে নেওয়া, স্থানান্তর করা বা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। জেলাশাসক আরও জানান, নদীতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলি গ্যাসে ভর্তি নাকি খালি, কিংবা সেগুলির নিরাপত্তার অবস্থা কী-তা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তাই মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি। তিনি বলেন, কেউ যদি কোনও সিলিন্ডার খুঁজে পান, তাহলে তা অবিলম্বে এইচপিসিএল প্ল্যান্ট, নিকটবর্তী এইচপিসিএল ডিলার, খালাপুর তহসিলদারের দফতর, সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিস অথবা মহকুমা শাসকের (এসডিও) কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। রায়গড় জেলা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।