Arunachal Chinese Incursion Claims: অরুণাচলে চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগে তদন্তে সরকার, গঠিত কমিটি, কী বলল সেনা?

সীমান্তবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক বছরে পিএলএ ধাপে ধাপে তাঁদের পৈতৃক জমি ও চারণভূমির বড় অংশ দখল করেছে। অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ সরকার। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে একে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।

Published on: Jun 30, 2026, 10:36:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় জমি দখলের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সীমান্তবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক বছরে পিএলএ ধাপে ধাপে তাঁদের পৈতৃক জমি ও চারণভূমির বড় অংশ দখল করেছে। অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ সরকার। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে একে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।

সীমান্তবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক বছরে পিএলএ ধাপে ধাপে তাঁদের পৈতৃক জমি ও চারণভূমির বড় অংশ দখল করেছে।
সীমান্তবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক বছরে পিএলএ ধাপে ধাপে তাঁদের পৈতৃক জমি ও চারণভূমির বড় অংশ দখল করেছে।

সোমবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পঞ্চায়েত কমিটিগুলির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।

মামা নাটুং বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ভারতের জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই সীমান্ত এলাকায় বাস্তবে কী পরিস্থিতি রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে চিনা সেনা অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। সেনার বক্তব্য, এই ধরনের খবরের কোনও ভিত্তি নেই এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল নেই। সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সেনাবাহিনীর কড়া নজর রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে অরুণাচলের আদিবাসী সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র একটি স্মারকলিপিকে ঘিরে। সংগঠনটি সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছে, গত ছয় বছরে চিনা সেনা ধাপে ধাপে তাদের ঐতিহ্যগত জমি ও চারণভূমির বিস্তীর্ণ অংশ দখল করেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সীমান্ত এলাকায় চিন ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ালেও ২০২০ সালের পর থেকে সেই আগ্রাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্মারকলিপিতে আপার সুবনসিরির তাকসিং অঞ্চলের পাঁচটি নির্দিষ্ট এলাকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলি হল—আসাফিলা এলাকার ওয়িং, পোট্রাং হ্রদ, মারপান (মারনাফে), পানিয়ার (চুজারতা এলাকা) এবং টিনডিনটাং (টিজি)। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সাল পর্যন্ত এই এলাকাগুলি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে সেখানে চিনা সেনা ঘাঁটি গড়ে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অতীতেও অনুপ্রবেশের অভিযোগ ও টহল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী আদিবাসীদের অভিযোগ এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের তদন্তের সিদ্ধান্ত নতুন করে বিষয়টিকে গুরুত্বের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকেই নজর রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More