UN world map: রাষ্ট্রসংঘের নয়া মানচিত্রে অরুণাচল-আকসাই চিন নিয়ে বিতর্ক কেন! এল নয়া রিপোর্ট

UN world map: গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘ম্যাপ সংশোধন বা কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনে আনা ওই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য বিশ্বের মানচিত্র থেকে ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তন ও অবস্থানকে আরও যথাযথ ভাবে তুলে ধরা।

Published on: Sep 8, 2026, 20:23:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

UN world map: রাষ্ট্রসংঘের সদ্য প্রকাশিত বিশ্ব মানচিত্র নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নতুন মানচিত্রে ভারতের সীমানা, বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ এবং আকসাই চিনকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ম্যাপে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় অঞ্চলকে ভারত ও চিনের (India China Border) আলাদা আলাদা 'দাবি রেখা' বা 'ক্লেম লাইন'-এর মাঝে অবস্থান হিসেবে দেখানো হয়েছে।

UNর নয়া মানচিত্রে অরুণাচল-আকসাই চিন নিয়ে বিতর্ক, কড়া বার্তা নয়াদিল্লির (সৌজন্যে টুইটার)
UNর নয়া মানচিত্রে অরুণাচল-আকসাই চিন নিয়ে বিতর্ক, কড়া বার্তা নয়াদিল্লির (সৌজন্যে টুইটার)

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রকাশিত ওই মানচিত্রটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১ জুলাই ২০২৬। সেখানে অরুণাচল প্রদেশের ক্ষেত্রে ভারতীয় সীমান্তের বদলে পৃথক একটি রেখা ব্যবহার করা হয়েছে। মানচিত্রে অরুণাচলকে এমন একটি অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার এক দিকে অসম ও অন্য দিকে চিনের সীমান্ত রয়েছে। একই ভাবে আকসাই চিনকেও পৃথক অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার পশ্চিম দিকে ভারতের সঙ্গে এবং পূর্ব দিকে চিনের সঙ্গে সীমান্ত দেখানো হয়েছে। এই বিষয়ে মানচিত্রে কিন্তু কোনও স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা রাখা হয়নি। রাষ্ট্রসংঘের এই দ্বিমুখী আচরণ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদেরও অবাক করেছে।

রাষ্ট্রসংঘের নতুন মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) নিয়ে আলাদা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ডটেড লাইন দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এলওসি দেখানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত অবস্থান দুই দেশের মধ্যে এখনও নির্ধারিত হয়নি। গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘ম্যাপ সংশোধন বা কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনে আনা ওই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য বিশ্বের মানচিত্র থেকে ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তন ও অবস্থানকে আরও যথাযথ ভাবে তুলে ধরা। প্রস্তাবটি যদিও বাধ্যতামূলক নয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। ওই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছিল ভারতও।

কিন্তু ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ওই প্রস্তাবে সমর্থন জানানোর অর্থ কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্র বা সীমান্ত-চিত্রকে মেনে নেওয়া নয়। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতের ভূখণ্ডকে দেশের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ীই দেখাতে হবে। জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ বা অন্য কোনও ভারতীয় ভূখণ্ডের ভুল বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা নয়াদিল্লি মেনে নেবে না। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রসঙ্গে বলেন, 'কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ-সহ ভারতের সম্পূর্ণ সার্বভৌম অঞ্চলকে সবসময় ভারতের অফিসিয়াল মানচিত্র মেনেই প্রদর্শন করা উচিত। ভারতের ভৌগোলিক সীমানার কোনও ধরনের ভুল, বিকৃত কিংবা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন ভারতের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।' তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতের অফিসিয়াল মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশ যেমন ভারতের রাজ্য হিসেবে স্পষ্ট, তেমনই সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত এবং আকসাই চিন পুরোপুরি লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেরই অঙ্গ।

উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চিন। বেজিং এই অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে অভিহিত করে। অন্যদিকে, আকসাই চিন বর্তমানে চিনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভারত সেটিকে লাদাখের অংশ বলে দাবি করে। নয়াদিল্লি এও দাবি করে যে অরুণাচল প্রদেশ ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে দুই অঞ্চলই ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।