Kejriwal on Sonam Wangchuk: ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা হোক’, দাবি কেজরিওয়ালের

যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা হোক। একজন মানুষ দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে প্রস্তুত হয়েছেন। তাঁকে আমি স্যালুট জানাই।'

Published on: Jul 16, 2026, 19:22:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Kejriwal on Sonam Wangchuk: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে এবার সরাসরি সমর্থন জানালেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে অনশনরত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে সোনম ওয়াংচুককেই দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা উচিত।

কেজরিওয়াল বলেন, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা হোক'
কেজরিওয়াল বলেন, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা হোক'

যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা হোক। একজন মানুষ দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে প্রস্তুত হয়েছেন। তাঁকে আমি স্যালুট জানাই।'

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ২০১১ সালের অন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের কথা। কেজরিওয়াল বলেন, 'এই যন্তর মন্তরেই আমি অন্না হাজারের সঙ্গে আন্দোলনে বসেছিলাম। সেই আন্দোলনের কথা সারা দেশ জানে। আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করব, সোনম ওয়াংচুকের দাবি শুনুন। না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে আপ সুপ্রিমো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন, কারণ সোনম ওয়াংচুক এমন কিছু পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন, যা গোটা দেশকে নাড়া দেবে।' বর্তমানে ওয়াংচুক এবং সিজেপি (Cockroach Janta Party)-র কর্মীরা যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন চালাচ্ছেন। তাঁদের মূল দাবি, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করতে হবে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

কেজরিওয়াল বলেন, 'সোনম ওয়াংচুক একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। এর আগেও তিনি লাদাখের মানুষের অধিকার রক্ষায় অনশনে বসেছিলেন। এবার তিনি দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য আন্দোলন করছেন।' প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। তারা বিশ্বাস করে, নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ গড়বে। কিন্তু বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস সেই বিশ্বাসকে ভেঙে দিচ্ছে। এটি শুধু ছাত্রদের নয়, গোটা দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক।'

নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, 'আমিও আইআইটির প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। আমার দুই সন্তানও একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছে। তাই আমি জানি, এই পরীক্ষাগুলোর গুরুত্ব কতটা।' এদিন প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার অভিযুক্তদের দ্রুত জামিন পাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরে তিনি তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এভাবে চলতে থাকলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে এবং আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও বাড়তে পারে।

আন্দোলনের মঞ্চ থেকে আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান কেজরিওয়াল। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আপ নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ। তিনিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি কটাক্ষ করে বলেন, 'যদি শিক্ষামন্ত্রীকে সরানোই হয়, তাহলে আবার যেন স্মৃতি ইরানিকে সেই পদে না আনা হয়।' যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এখন কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More