ইরান সংঘাত থামার ইঙ্গিত, কমল অপরিশোধিত তেলের দাম; ভারতের জ্বালানির বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?

রবিবার রাতে মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮০.৭৯ ডলারে দাঁড়ায়। একইভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮৩.৮৭ ডলারে নেমে আসে। তবে দাম কমলেও সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এখনও তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

Published on: Aug 3, 2026, 07:40:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেবেন। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত নেমে আসে।

রবিবার রাতে মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮০.৭৯ ডলারে দাঁড়ায়। (Bloomberg)
রবিবার রাতে মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮০.৭৯ ডলারে দাঁড়ায়। (Bloomberg)

রবিবার রাতে মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮০.৭৯ ডলারে দাঁড়ায়। একইভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮৩.৮৭ ডলারে নেমে আসে। তবে দাম কমলেও সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এখনও তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপিছু ১০০ ডলারেরও বেশি ছুঁয়েছে। ফলে জ্বালানিনির্ভর প্রায় সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্যিই শেষ হয়, তাহলে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে তেল পরিবহণে। এতদিন যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই জাহাজগুলি সহজেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম আরও কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সংঘাতের জেরে শুধু তেলের দামই বাড়েনি, তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। পেট্রোল, ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ খরচ বেড়েছে। অনেক দেশে যাতায়াতের খরচও বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় রেশনিং চালু করতে হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় স্কুল ও সরকারি অফিসও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলির লাভ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় তারা বেশি দামে তেল ও জ্বালানি বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে ভারতে কি সঙ্গে সঙ্গেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, তার উত্তর 'না'। কারণ ভারতে জ্বালানির খুচরো দাম শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে না। অপরিশোধিত তেলের দাম ছাড়াও ডলার-রুপির বিনিময় হার, তেল শোধনের খরচ, পরিবহণ ব্যয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কর—সব মিলিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও তার প্রভাব ভারতীয় বাজারে আসতে কিছুটা সময় লাগে। তাই আপাতত বিশ্ববাজারে স্বস্তির খবর এলেও, দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে তার সুবিধা কবে পৌঁছবে, সেটাই এখন দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More