US-Houthi Secret Meeting Update: একদিকে মার খাচ্ছে বন্ধু সৌদি, অন্যদিকে মার্কিনিদের গোপনে বৈঠক হুথিদের সঙ্গে

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিরা সম্প্রতি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করেছে। সৌদি আরব সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দিয়ে তারা এই এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হুথিদের সঙ্গে আমেরিকার গোপন যোগাযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Published on: Sep 17, 2026, 07:58:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক করল আমেরিকা। ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে এই বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র। তাঁদের মধ্যে তিনজন জানিয়েছেন, রবিবার মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে হুথি প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বাকি সূত্রগুলিও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওমান সরকার এই বৈঠক আয়োজন করতে সাহায্য করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিরা সম্প্রতি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করেছে। (via REUTERS)
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিরা সম্প্রতি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করেছে। (via REUTERS)

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিরা সম্প্রতি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করেছে। সৌদি আরব সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দিয়ে তারা এই এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হুথিদের সঙ্গে আমেরিকার গোপন যোগাযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৫ সালের মার্চে হুথিদের ‘Foreign Terrorist Organization’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এর ফলে সংগঠনটিকে সহায়তা করার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ আরও কঠোর হয়। এরপরও ওয়াশিংটন হুথিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতিও হয়। তার আগে প্রায় দুই মাস ধরে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা ঠেকাতে আমেরিকা হুথি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল।

সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শনিবার ট্রাম্প জানান, হুথিরাই তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইয়েমেন যুদ্ধে আমেরিকাকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছে। এর একদিন পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেন, আমেরিকার সঙ্গে হুথিদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বৈঠকে হুথি প্রতিনিধিরা মার্কিন আধিকারিকদের জানিয়েছে, আমেরিকান জাহাজে হামলার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। পাশাপাশি ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতিতে তারা এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে। একটি ইয়েমেনি সূত্রের দাবি, হুথিরা আরও জানিয়েছে, তারা ইজরায়েলি জাহাজ বা অন্য কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করবে না। তবে সৌদি আরবের জাহাজ এই প্রতিশ্রুতির বাইরে থাকবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

বৈঠকে মার্কিন দিক থেকে দূতাবাসের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। হুথিদের পক্ষ থেকে মাসকাটে থাকা শীর্ষ নেতা মহম্মদ আবদুলসালাম বৈঠকে ছিলেন বলেও দুটি সূত্র জানিয়েছে। আবদুলসালাম বর্তমানে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আর এক শীর্ষ হুথি নেতা আবদেল মালেক আল-আজিরিও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বৈঠক নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। তবে তারা জানিয়েছে, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়া আটকানো আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ।

এরই মধ্যে হুথিরা ইয়েমেনের গোটা লোহিত সাগর উপকূলের উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঐতিহাসিক মোখা বন্দর এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ।

প্রায় এক দশক ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে লড়াই করছে হুথিরা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যুদ্ধ কিছুটা শান্ত থাকলেও জুলাইয়ে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। সৌদি বন্দর অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করে।

হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটন রিয়াদকে জানিয়েছে, ইয়েমেন যুদ্ধে তারা সরাসরি সামরিকভাবে জড়াবে না।

ফলে একদিকে হুথিদের সঙ্গে আমেরিকার যোগাযোগ, অন্যদিকে সৌদি আরবকে সরাসরি সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত—দুইয়ের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, সৌদি-হুথি সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More