Students protest: জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার 'স্লোগান' বিতর্ক বাড়তেই অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

Jamia Millia Islamia protest: গত ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ারের তরফে অনুষ্ঠান বাতিলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ডিনদের।

Published on: Oct 24, 2026, 16:16:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Jamia Millia Islamia protest: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল রাজধানী দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (Jamia Millia Islamia)। আর সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ এবং ‘ফ্রি শারজিল ইমাম’-এর মতো অত্যন্ত বিতর্কিত স্লোগান দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-র 'স্লোগান' বিতর্ক বাড়তেই অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (PTI)
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-র 'স্লোগান' বিতর্ক বাড়তেই অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (PTI)

নয়াদিল্লির এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। 'ফ্রি কাশ্মীর' এবং 'ফ্রি শারজিল ইমাম'-এর মতো স্লোগান সম্বলিত পোস্টার নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে এই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এর মধ্যে জেএনইউ-এর পিএইচডি গবেষক শারজিল ইমামের মুক্তির দাবিও ওঠে। শারজিল ইমাম সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। এই আবহে শুক্রবার কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পাসে গেলে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে। তবে ইমরান মাসুদ বিতর্কিত পোস্টারগুলোর সঙ্গে নিজের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘সেখানে 'ফ্রি কাশ্মীরের' পক্ষে কোনও স্লোগান দেওয়া হয়নি, একটিও নয়। আমি সকলের সামনে দাঁড়িয়ে এ ধরনের স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং বলেছি, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’ ইমরান মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবি জানান। এই বিতর্কিত ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন গত ১২ অক্টোবর থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ (JMISU) নির্বাচনের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছাত্র বিক্ষোভের জেরে প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে বাতিল করেছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া। এবার ১০৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত নয়া দিল্লি ক্যাম্পাসে ‘তালিমি মেলা ২০২৬’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে চলতে থাকা বিক্ষোভের জেরে আয়োজন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

গত ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ারের তরফে অনুষ্ঠান বাতিলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ডিনদের। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবে এখনও সম্মতি জানাননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি। শিক্ষার্থী, অতিথি ও যোগদানকারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত। এদিকে, গত ১২ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গালিব লনে (Ghalib Lawns) অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অবিলম্বে জেএমআইএসইউ নির্বাচনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছেন তারা। চলতি আন্দোলন ও অচলাবস্থার মাঝেই ২০০৬ সাল থেকে ভেঙে দেওয়া ছাত্র সংসদের জন্য নতুন একটি খসড়া সংবিধান তৈরির লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে এক বাক্যে নাকচ ও প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, এই নোটিস তাঁদের আসল সমস্যা বা মূল দাবিগুলির সমাধান করে না।