Ram Mandir Donation Case:'যদি ট্রাস্টে কোনও মুসলিম..,' রামমন্দির অনুদান তছরুপ-কাণ্ডে যোগী সরকারকে 'বুলডোজার' তোপ ওয়েইসির
Ram Mandir Donation Case: তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হায়দরাবাদের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আলোচিত এই মামলার অভিযুক্তদের রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পুলিশের তৎপরতা নেই।
Ram Mandir Donation Case: অযোধ্যার রাম মন্দির অনুদান ও প্রণামী তছরুপের অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে এবার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন হায়দরাবাদের সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সোমবার পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় কোনও মুসলিম জড়িত থাকলে ইতিমধ্যে সরকার তাকে এনকাউন্টারে করত এবং তার বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হতো।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ট্রাস্টে একজন মুসলিম সদস্য থাকলে তাকে এতক্ষণে এনকাউন্টারে হত্যা করা হতো এবং তার বাড়িও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হতো। অথচ বর্তমানে অভিযুক্তরা নির্বিঘ্নে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'তাদের উচিত ছিল ট্রাস্টে একজন মুসলিমকে রেখে তার এনকাউন্টার করে এবং তার বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে মামলাটি শেষ করে দেওয়া। কিন্তু বর্তমানে অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে।' পাশাপাশি, তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হায়দরাবাদের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আলোচিত এই মামলার অভিযুক্তদের রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পুলিশের তৎপরতা নেই।
এর আগেও তিনি একই প্রশ্ন তুলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশে সাধারণ মুসলিমদের বিরুদ্ধে যেভাবে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এই অনুদান কেলেঙ্কারির অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও সরকার একই নীতি অনুসরণ করবে কিনা। রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। পরে বিরোধী দলগুলোর চাপের মুখে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দিরের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেন।
গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অনুদান গণনাকারী দলের আট কর্মী-অবিনাশ শুক্লা, অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মন্দিরের হিসাব থেকে আনুমানিক ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা গায়েব হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
E-Paper

