AAP MPs join BJP: হয়েছিলেন রাঘব চাড্ডার স্থলাভিষিক্ত! সেই সাংসদও ‘আপ’ ত্যাগ করে বিজেপি-তে, কড়া প্রতিক্রিয়া...

AAP MPs join BJP: শুক্রবার দিল্লিতে সাংসদ সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তলকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাঘব চাড্ডা। সেখানেই তিনি বলেন, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রাজ্যসভায় আপ-এর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে আমরা ভারতের সংবিধানের বিধান প্রয়োগ করে বিজেপির সঙ্গে মিশে যাব।' 

Published on: Apr 24, 2026, 19:47:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

AAP MPs join BJP: আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাজানো বাগানে বড়সড়ো ‘বিস্ফোরণ।’ রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডার দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার জল্পনার মধ্যেই সামনে এল আরও এক চমকে দেওয়া নাম-অশোক মিত্তাল। এই অশোক মিত্তালকেই গত ২ এপ্রিল রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে রাজ্যসভায় আপের ডেপুটি লিডার (উপনেতা) বানিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তিনিও দল ছাড়লেন এবং রাঘবের সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিলেন। এই ঘটনায় আপের অন্দরের রাজনীতি এবং নেতৃত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

APP ত্যাগ করে বিজেপি-তে অশোক মিত্তাল (ANI Picture Service)
APP ত্যাগ করে বিজেপি-তে অশোক মিত্তাল (ANI Picture Service)

শুক্রবার দিল্লিতে সাংসদ সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তলকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাঘব চাড্ডা। সেখানেই তিনি বলেন, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রাজ্যসভায় আপ-এর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে আমরা ভারতের সংবিধানের বিধান প্রয়োগ করে বিজেপির সঙ্গে মিশে যাব।' সম্প্রতিই আপ সরকারিভাবে রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে রাঘব চাড্ডাকে উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে অশোক মিত্তালকে নিয়োগ করার কথা জানায়। সেদিন সন্ধ্যার মধ্যেই রাজ্যসভার ওয়েবসাইটেও এই বদল নথিভুক্ত হয়ে যায়। তারপর থেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হ়য়েছিল রাঘব চাড্ডার। এরমধ্যেই মাত্র ১৫ দিনের মাথায় অশোক মিত্তালের দলত্যাগ আপের জন্য আরও বড় ধাক্কা হয়ে এল। আবার এদিন সন্ধ্যাই দিল্লিতে বিজেপির দলীয় দফতরে গিয়ে সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের হাত ধরে একযোগে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তাল।

অশোক মিত্তাল পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি দেশের অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি-র প্রতিষ্ঠাতা ও চ্যান্সেলর। শিক্ষা এবং শিল্প জগতে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। আপ তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে পাঞ্জাবে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে চেয়েছিল। এখন তাঁর দলত্যাগ সরাসরি পাঞ্জাবের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে রাঘব চাড্ডা আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, 'যে আপ-কে আমি আমার রক্ত-ঘাম দিয়ে লালন করেছি এবং আমার যৌবনের ১৫টি বছর দিয়েছি, সেটি তার নীতি, মূল্যবোধ এবং মূল নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এখন এই দলটি দেশের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করে... বিগত কয়েক বছর ধরে আমি অনুভব করছিলাম যে আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ হিসেবে আছি। তাই, আজ আমি ঘোষণা করছি যে আমি আপ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি এবং জনগণের কাছাকাছি আসছি।' সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তাল এছাড়াও যাঁরা আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন বলে রাঘব জানিয়েছেন, তাঁরা হলেন স্বাতী মালিওয়াল, প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্ত এবং বিক্রম সাহনি।

ইডি হানা

গত ১৫ এপ্রিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অশোক মিত্তালের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয়। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়। জলন্ধরে তাঁর বাড়ি, এলপিইউ ক্যাম্পাস এবং অন্যান্য জায়গায় হানা দেয় ইডি। এই তল্লাশি প্রায় তিন দিন ধরে চলে এবং ১৭ এপ্রিল শেষ হয়। সেই সময়, আপ নেতারা রাঘব চড্ডার তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন। তাঁরা দাবি করেন, এই অভিযানগুলো রাঘবের নির্দেশেই চালানো হয়েছিল, কারণ তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করতেন এবং গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া রয়েছে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল যে দলের অন্দরে বড় কিছু ঘটতে চলেছে।

আপ-এর প্রতিক্রিয়া

আপ-এর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস‘ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দিল্লিতে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন করেন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, 'বিজেপি রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ভয় দেখাচ্ছে। ইডি ও সিবিআই-কে কাজে লাগিয়ে আমাদের সাংসদদের কেনাবেচা করা হচ্ছে। এটি আসলে ওদের পুরনো খেলা ‘অপারেশন লোটাস’।' সঞ্জয় সিং আরও অভিযোগ করেন যে, পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। তিনি বলেন, 'পাঞ্জাবের মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করবে না। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ যে চক্রান্ত করছেন, তার যোগ্য জবাব দেবে সাধারণ মানুষ।' পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানও এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'বিজেপির বরাবরই পাঞ্জাব আর পাঞ্জাবিদের নিয়ে সমস্যা। প্রথমে আরডিএফ আটকেছে, তারপর বিধায়কদের নিশানা করেছে, আর এখন সাংসদদের নিজেদের দিকে টেনে পাঞ্জাবের পিঠে ছুরি মারল।' তিনি আরও বলেন যে পাঞ্জাবে বিজেপির কোনও জনভিত্তি নেই, তাই তারা আপের জনভিত্তি ভাঙার চেষ্টা করছে।