Asian Games Golf Gold Medal: গলফ কোর্সে প্রণবীর ইতিহাস, এশিয়ান গেমসে ভারতে ঐতিহাসিক সোনা, দলগত ভাবে এল রুপোও
কাসুগাই কান্ট্রি ক্লাবের ইস্ট কোর্সে প্রথম তিন রাউন্ডের পরই প্রণবী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে এ বার অন্য রকম কিছু হতে চলেছে। শুক্রবার তৃতীয় রাউন্ডে চার আন্ডার ৬৬ স্কোর করে মোট ১৫ আন্ডার পার ১৯৫-এ পৌঁছে যান তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের শ্যানন ট্যানের চেয়ে তিন শট এগিয়ে ছিলেন ভারতীয় গলফার।
এশিয়ান গেমসের শেষ দিনে ভারতীয় গলফে তৈরি হল নতুন ইতিহাস। ২৩ বছরের প্রণবী উর্স মহিলাদের ব্যক্তিগত স্ট্রোক প্লে বিভাগে সোনা জিতে নিলেন। এশিয়ান গেমসের গলফে ব্যক্তিগত বিভাগে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা হলেন তিনি। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে যাঁদের সম্ভাব্য পদকজয়ী হিসাবে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, সেই প্রণবীই শেষ পর্যন্ত সবাইকে পিছনে ফেলে দেশের জন্য এনে দিলেন ঐতিহাসিক সাফল্য।

কাসুগাই কান্ট্রি ক্লাবের ইস্ট কোর্সে প্রথম তিন রাউন্ডের পরই প্রণবী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে এ বার অন্য রকম কিছু হতে চলেছে। শুক্রবার তৃতীয় রাউন্ডে চার আন্ডার ৬৬ স্কোর করে মোট ১৫ আন্ডার পার ১৯৫-এ পৌঁছে যান তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের শ্যানন ট্যানের চেয়ে তিন শট এগিয়ে ছিলেন ভারতীয় গলফার। তৃতীয় স্থানে থাকা চিনের রুয়োনিং ইয়িনের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান ছিল চার শট।
তবে শেষ রাউন্ডে কাজটা একেবারেই সহজ ছিল না। সামনে তখনও বাকি ১৮টি হোল। তার উপর এশিয়ান গেমসে এর আগেও শেষ রাউন্ডে নাটকীয় ভাবে বদলে গিয়েছিল ভারতের মহিলা গলফের ছবি। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে আদি্তি অশোক তৃতীয় রাউন্ডের পর সবার আগে ছিলেন। কিন্তু শেষ রাউন্ডে ৭৭ শট খেলে সোনা হাতছাড়া করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রুপো পেয়েছিলেন আদি্তি। সেই প্রতিযোগিতায় ভারতীয় মহিলা দলও চতুর্থ হয়েছিল। ফলে প্রণবীর সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল শুধু লিড ধরে রাখা নয়, সেই পুরনো হতাশাকেও পিছনে ফেলা।
এ বার অবশ্য শেষ পর্যন্ত সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হল না। শুরু থেকেই নিজের ছন্দ ধরে রাখেন প্রণবী। চাপের মধ্যেও শট বাছাইয়ে দেখান দারুণ আত্মবিশ্বাস। আগের রাউন্ডগুলির মতোই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বার্ডি তুলে নিয়ে ব্যবধান ধরে রাখেন তিনি। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা যতই চাপ তৈরি করার চেষ্টা করুন, প্রণবীকে আর পিছনে ফেলা সম্ভব হয়নি।
প্রণবীর এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা গলফও পেল নতুন পরিচয়। ২০২৩ সালে আদি্তির রুপো ছিল এশিয়ান গেমসে ভারতের মহিলা গলফের একমাত্র পদক। এ বার প্রণবীর সোনা সেই ইতিহাসকে বদলে দিল। শুধু ব্যক্তিগত ইভেন্টেই নয়, তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে দলগত প্রতিযোগিতাতেও।
মহিলাদের দলগত বিভাগেও ভারত রুপো জিতেছে। প্রণবীর সঙ্গে দলে ছিলেন অভিজ্ঞ আদি্তি অশোক এবং দীক্ষা দাগর। দলগত ফলাফলে প্রণবীর ব্যক্তিগত সাফল্যই বড় ভূমিকা নেয়। তৃতীয় রাউন্ডের পর ভারতীয় দল চিনের পিছনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। তখন ভারতের মোট স্কোর ছিল ১১ আন্ডার পার, সামনে ছিল শুধু চিন।
ব্যক্তিগত বিভাগে আদি্তি অশোক শেষ পর্যন্ত ১৪তম এবং দীক্ষা দাগর ২৩তম স্থানে শেষ করেন। কিন্তু তাঁদের ফলকে ছাপিয়ে গিয়েছে প্রণবীর সোনা। অচেনা নয়, তবে বড় মঞ্চে এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এক ভারতীয় গলফার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে এমন সাফল্য এনে দিলেন, যা দেশের মহিলা গলফের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিল।
প্রণবীর জয় তাই শুধু একটি সোনার পদক নয়। এটি ভারতীয় গলফে নতুন অধ্যায়ের শুরু। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথম বার ব্যক্তিগত মহিলা গলফে ভারতীয় জাতীয় সঙ্গীত বাজল সোনাজয়ীর সম্মানে। আর সেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে গেলেন মাইসোরের প্রণবী উর্স।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


