Guwahati murder case: 'শীঘ্রই সুগার ড্যাডিকে...,' স্ত্রীকে খুন করে মাথা ফ্রিজে, গ্রেফতার হতেই হুঙ্কার অসম যুবকের

Guwahati murder case: গুয়াহাটির একটি ফ্ল্যাটে ওই দম্পতি কয়েক মাস ধরেই ভাড়া থাকতেন। গত শুক্রবারের পর থেকে তাঁদের আর কাউকে বাইরে দেখতে পাননি প্রতিবেশীরা। এমনকী দু'জনের ফোনও বন্ধ ছিল।

Published on: Sep 8, 2026, 13:34:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Guwahati murder case: জেলের সাজা শেষ হলে আমি ওই 'সুগার ড্যাডি'কেও খুন করব!' স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতারের পর আদালতে পেশ করার সময় এমনই হুঁশিয়ারি দিল রামানুজ গোস্বামী (Guwahati murder case)। ২৫ বছর বয়সি স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার গুয়াহাটির আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক বক্তব্য রাখে অভিযুক্ত।

স্ত্রীকে খুন করে মাথা ফ্রিজে, গ্রেফতার হতেই হুঙ্কার অসম যুবকের (সৌজন্যে টুইটার)
স্ত্রীকে খুন করে মাথা ফ্রিজে, গ্রেফতার হতেই হুঙ্কার অসম যুবকের (সৌজন্যে টুইটার)

অসমীয়া ভাষায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রামানুজ গোস্বামী স্পষ্ট জানান, তিনি তার স্ত্রীকে খুন করেছেন। এমনকী জেল থেকে মুক্তির পর তথাকথিত সেই 'সুগার ড্যাডি'কেও খুন করার বলে দাবি করেছেন। তবে সাংবাদিকরা বারবার সেই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে অত্যন্ত অভব্য আচরণ করে। কোনও রাখঢাক না রেখেই জোর গলার অভিযুক্ত বলেন, 'আমার কোনও অনুশোচনা নেই, ক্ষমা চাওয়ারও কিছু নেই।' এর আগে প্রায় দু'দিন পলাতক থাকার পর রবিবার গভীর রাতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ। এরপর আদালত তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য উদ্দেশ্য জানতে এবং ঘটনার কার্যকারণ পুনর্নির্মাণ করতে অভিযুক্তকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বচসার জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিয়াকে কুপিয়ে খুন করা হয়। তবে রামানুজের দাবি করা সেই 'সুগার ড্যাডি' আসলে কে এবং এই বয়ানের পেছনে কী রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ফ্রিজে কাটা মুণ্ডু, ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ

পুলিশ সূত্রে খবর, গুয়াহাটির একটি ফ্ল্যাটে ওই দম্পতি কয়েক মাস ধরেই ভাড়া থাকতেন। গত শুক্রবারের পর থেকে তাঁদের আর কাউকে বাইরে দেখতে পাননি প্রতিবেশীরা। এমনকী দু'জনের ফোনও বন্ধ ছিল। এরপর রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশীরাই থানায় জানান, ওই বাড়ি থেকে পচা, দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যার জেরে আশেপাশের বাড়ির কেউই টিকতে পারছিলেন না। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় আর দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অবশেষে সেই বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে সদ্য বিবাহিত তরুণীর ক্ষতবিক্ষত পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দেখা যায়, তাঁর আঙুলগুলো অর্ধেক কাটা এবং ধড় থেকে মাথা সম্পূর্ণ আলাদা! কিন্তু মুণ্ডুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর পুরো ঘর জুড়ে তল্লাশি চালানোর সময় ফ্রিজ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের, একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে লুকিয়ে রাখা রয়েছে তরুণীর কাটা মাথা। পুলিশ দ্রুত খণ্ডবিখণ্ড দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পিছনের আসল উদ্দেশ্য জানতে এবং অভিযুক্তের বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। কী কারণে এত নৃশংসভাবে স্ত্রীকে খুন করলেন? দম্পতির মধ্যে কোনও পারিবারিক বিবাদ ছিল, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও গভীর কারণ? সে বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। এর পিছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।