Assam Pak Spy Link Arrests: পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগের সন্দেহ! অসমে গ্রেফতার ৬, তদন্তে এসটিএফ

অসমে একটি আর্থিক জালিয়াতির চক্রের পর্দাফাঁস করল অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Published on: Nov 3, 2026, 07:01:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

অসমে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্দেহে গ্রেফতার একাধিক। সেখানে একটি আর্থিক জালিয়াতির চক্রের পর্দাফাঁস করল অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অন্যের নামে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চালানো হচ্ছিল। সেই অর্থের লেনদেনে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অসমে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্দেহে গ্রেফতার একাধিক।
অসমে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্দেহে গ্রেফতার একাধিক।

অসম পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় গুপ্তচর সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর অভিযান শুরু করে এসটিএফ। গুয়াহাটির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। এই তদন্তের সূত্রপাত হয় শোনিতপুর জেলা পুলিশের দায়ের করা একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে একটি সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কথা। অ্যাকাউন্টটি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) এবং সেটি চালাতেন ধৃত মারজিনা বেগম নামে এক মহিলা।

পুলিশের দাবি, ২০২৬ সালের ২২ জুন থেকে ৫ অগস্টের মধ্যে ওই অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় কয়েক লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। কিন্তু টাকা জমা হওয়ার পরেই তা দ্রুত তুলে নেওয়া হত। অল্প সময়ের ব্যবধানে টাকা জমা এবং তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়ায়। তাঁদের ধারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের জন্যই অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

তদন্তে আরও দুই যুবকের নাম উঠে আসে। তাঁরা হলেন ২২ বছরের মোফিজুল হক এবং ১৯ বছরের হিমাংশু দাস। দু’জনেই গুয়াহাটির বাসিন্দা। পুলিশের অনুমান, ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হওয়া সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে। পাশাপাশি, এই আর্থিক লেনদেনের পিছনে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার কোনও অপারেটিভের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসটিএফের অভিযানে প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মারজিনা বেগম। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া নথি খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারীরা আরও কয়েক জনের সন্ধান পান। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে মোফিজুল হক এবং হিমাংশু দাসের নামেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে বলে দাবি পুলিশের।

এর পর ২৯ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় ৩৪ বছরের রাকিব হুসেনকে। পরের দিন, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর, গ্রেফতার করা হয় ২৫ বছরের ইফতার হুসেন এবং ২০ বছরের আরমান আজুজ হককে। সব মিলিয়ে ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়।

অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ব্যাঙ্কের পাসবুক, এটিএম কার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরীক্ষা করে এই চক্রের আর্থিক লেনদেনের ধরন এবং নেটওয়ার্কের পরিধি জানার চেষ্টা চলছে।

তদন্তকারীদের মতে, অন্যের নামে খোলা বা অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার টাকা সরানোর পদ্ধতিকে সাধারণত 'মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট' বলা হয়। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের মালিকের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করা হতে পারে। অসমের এই ঘটনায়ও তেমন কোনও কৌশল কাজে লাগানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

তবে পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ এখনও তদন্তের বিষয়। সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য লেনদেনের পিছনে কারা রয়েছে এবং দেশের বাইরে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানতেই তদন্ত চালাচ্ছে অসম পুলিশ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More