থাইল্যান্ডের স্কুলে নবম শ্রেণির পড়ুয়ার তাণ্ডব! চলল এলোপাথাড়ি গুলি, নিহত শিক্ষক-সহ ৪
Thailand school shooting: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারী ছাত্রটি ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণিতে পড়ে। এদিন ক্লাস চলাকালীন আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সহপাঠী ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে সে। আকস্মিক এই ঘটনায় স্কুলের ভেতরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
Thailand school shooting: থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন বন্দুক উঁচিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল এক নাবালক পড়ুয়া। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে ননথাবুরি প্রদেশের (Nonthaburi district) বাংকরুয়াই জেলার একটি স্কুলে। এই ঘটনায় এক শিক্ষক-সহ অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ১৫ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও, আপাতত চারজনের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারী ছাত্রটি ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণিতে পড়ে। এদিন ক্লাস চলাকালীন আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সহপাঠী ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে সে। আকস্মিক এই ঘটনায় স্কুলের ভেতরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক শিক্ষক এগিয়ে এলে তাঁকেও গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত পৌঁছায় পুলিশ। ননথাবুরি প্রদেশের পুলিশ প্রধান দেচারেপি কোংডি বিবিসি-কে জানান, হামলাকারী নবম শ্রেণির ছাত্র। তবে কী কারণে ওই পড়ুয়া হঠাৎ স্কুলে এমন হামলা চালাল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে, হামলাকারী ছাত্রটির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, হামলাকারী স্কুলের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে। একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছে। তাণ্ডব চালানোর পর ওই পড়ুয়া নিজেই আত্মঘাতী হয়েছে। আবার কয়েকটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে হামলাকারীর। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ পোহ টেক তুং ফাউন্ডেশন-এর স্বেচ্ছাসেবকরা (Poh Teck Tung Foundation) স্বনামধন্য এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে গুলির খবর পান। প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের একজন শিক্ষক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ১০ জন বলে প্রথমে জানানো হলেও থাই পিবিএস জানায়, এই সংখ্যা ১৫ জন। অন্যদিকে রয়টার্স পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, একজন শিক্ষক নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে। হামলার পর ওই ছাত্র স্কুলের গোলাপি রঙের ভবনের তৃতীয় তলায় লুকিয়ে ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। অন্যদিকে, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় স্তম্ভিত থাই সরকার। ব্যাংককের গভর্মেন্ট হাউসে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। আমাদের দেশে এমন ঘটনা কোনওভাবেই ঘটা উচিত হয়নি। অভিযুক্ত কিশোরের কাছে পিস্তল কীভাবে এল, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী। দেবসিরিন স্কুল (Debsirin School) থাইল্যান্ডের একটি স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দেশজুড়ে এর একাধিক শাখা রয়েছে। যে শাখায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি ননথাবুরি প্রদেশে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত।
থাইল্যান্ডে প্রায় এক কোটি বৈধ-অবৈধ অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে রয়েছে, যা প্রতি সাতজনে একজনের সমান। অস্ত্র আইন কঠোর করার একাধিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও দেশটিতে প্রায়ই এমন মর্মান্তিক গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে একই রকম এক ঘটনায় প্রধান শিক্ষক নিহত হন এবং ২০২২ সালে একটি শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে এক প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার নৃশংস হামলায় ২৪ শিশু-সহ ৩৬ জন প্রাণ হারান।
E-Paper

