ইউনুসের বিদায়বেলাতেও হিন্দুদের ওপর অত্যাচার জারি বাংলাদেশে। ভোটের ফলাফল প্রকাশ পেতেই বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে হিন্দুরা একচেটিয়া ভাবে বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল। একদা আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত হিন্দু সম্প্রদায় জামাতকে ঠেকাতে এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভরসা রাখেন তাঁরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতারা হিন্ুদের অভয় প্রদান করেন। তবে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইউনুসের বিদায়বেলাতেও হিন্দুদের ওপর অত্যাচার জারি বাংলাদেশে।
এই আবহে জানা গিয়েছে, ঠাকুরগাঁও পাঁচপীরে সংখ্যালঘু হিন্দু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বীরগঞ্জে নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণার পরপরই হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এর আগে ভোটের দু'দিন আগেই রংপুরের পীরগঞ্জের হিন্দুর বাড়িতে খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পাড়ায় ঢুকে কালী মন্দিরের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্র, নওগাঁয় মিঠুন সরকার, ফেনিতে সমীর কুমার দাসরা প্রাণ হারিয়েছেন। এসব হামলায় নিহতরা তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। এর আগে ২৩ জানুয়ারি চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিককে দোকানে বন্ধ করে রেখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশে ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের অটোচালককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন জয় মহাপাত্র। এর আগে মিঠুন সরকার তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ছিলেন বিলে ঝাঁপ দিয়ে। তার আগে গত ৫ জানুয়ারি ২ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী নরসিংদীতে খুন করা হয় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে। মৃতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি। তার আগে ৫ জানুয়ারি যশোরে গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে। এছাড়া গত ২ জানুয়ারি খুন হয়েছিলেন সত্য রঞ্জন দাস। ৩ জানুয়ারি খুন হন মিলন দাস এবং সনু দাস। গত ৩১ ডিসেম্বরে হামলার শিকার খোকন চন্দ্র দাসেরও মৃত্যু হয় ৩ জানুয়ারি। ৪ জানুয়ারি খুন হন শুভ পোদ্দার। এর আগে ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডলের খুনের ঘটনা সামনে এসেছিল সেই দেশে।