Azerbaijan: একদা বন্ধু আজারবাইজানে অভ্যুত্থানের ছক কষছে তুরস্ক? পাকিস্তানের ২ বেস্টফ্রেন্ডের মধ্যে কেন লাগল ঝামেলা?

তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বাকু সফরে গিয়ে গোপন বৈঠক করেছেন এবং অভ্যুত্থান ও অস্থিরতা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আজারবাইজানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। তবে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাকুতে অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাস।

Published on: Oct 19, 2026, 11:18:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

তুরস্ক ও আজারবাইজানের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বাকু সফরে গিয়ে গোপন বৈঠক করেছেন এবং অভ্যুত্থান ও অস্থিরতা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আজারবাইজানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। তবে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাকুতে অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাস। তাদের দাবি, দুই দেশের সুসম্পর্ক নষ্ট করতেই পরিকল্পিত ভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি তুরস্কের পার্লামেন্টে জমা পড়েছে বলে যে চিঠির উল্লেখ করা হয়েছে, তারও কোনও অস্তিত্ব নেই।

তুরস্ক ও আজারবাইজানের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা। (AP Photo/Ebrahim Noroozi)
তুরস্ক ও আজারবাইজানের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা। (AP Photo/Ebrahim Noroozi)

‘অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা’

১৭ অক্টোবর তুরস্কের দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হাকান ফিদানের জিওয়াইএফ বৈঠকের নেপথ্যে’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। আজারবাইজানের সংবাদমাধ্যম কাফকাজইনফো-সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কাফকাজইনফো প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয়।

দূতাবাসের বক্তব্য, বাকু সফরের সময় ফিদান একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সৌজন্যমূলক ছবি তুলেছিলেন। তাঁদের মধ্যে আজারবাইজানে আইনত স্বীকৃত একটি সংগঠনের সদস্যেরাও ছিলেন। সেই ছবি থেকে গোপন বৈঠক এবং বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে আঙ্কারা।

প্রতিবেদনে আজারবাইজানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, গোয়েন্দা অভিযান, অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তুরস্কের দূতাবাসের দাবি, আজারবাইজানের মানুষের মনে তুরস্কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করতেই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। দুই দেশের নাগরিকদের এই অভিযোগ বিশ্বাস না করার আবেদনও জানিয়েছে তারা।

স্কুলে হিজাব বিতর্কে বাড়ছে দূরত্ব

এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দুই দেশের সম্পর্কে অন্য বিষয়েও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম আজারবাইজানের স্কুলে হিজাব পরা নিয়ে নতুন বিধি।

গত সেপ্টেম্বরে আজারবাইজানের সরকার স্কুলে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অসংগত পোশাকের উপর বিধিনিষেধ জারি করে। এর ফলে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদও শুরু হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের উপদেষ্টা ওকতায় সারাল এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মাথা ঢাকা ছাত্রীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তুরস্কের শাসক দল একে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকারের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরে।

পাল্টা সরব হয় আজারবাইজানের শাসক দল নিউ আজারবাইজান পার্টি। তাদের বক্তব্য, তুরস্কের রাজনীতিকেরা আজারবাইজানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। স্কুলের পোশাকবিধি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং অন্য কোনও দেশের তা নির্ধারণ করার অধিকার নেই।

ইজরায়েল নীতিও সংঘাতের কারণ?

দুই দেশের মতপার্থক্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক। গাজা সংঘাতের পর ইজরায়েলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক তীব্র অবনতি হয়েছে। আঙ্কারা ইজরায়েলের নীতির কড়া সমালোচক। অন্য দিকে, আজারবাইজানের সঙ্গে ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত, সামরিক ও জ্বালানি সম্পর্ক রয়েছে। ইজরায়েলের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনে বাকু। পাশাপাশি, ইজরায়েলে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রেও আজারবাইজানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আজারবাইজানের শাসক দল সম্প্রতি ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওঠা সমালোচনাও খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণ করবে আজারবাইজান নিজেই। তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এক হতে হবে।

সব মিলিয়ে, হাকান ফিদানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তুরস্কের দূতাবাসের পাল্টা বিবৃতি দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া চাপকেই সামনে এনেছে। তবে গোপন বৈঠক বা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন ভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More