Bageshwar on Pakhandi Row: ‘পাখণ্ডী’ মন্তব্যে বিতর্কের পর সুর বদল বাগেশ্বরের, ‘পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে?’

গ্লাসগো থেকে দেওয়া বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবা বলেন, বাড়িতে কেউ মাছ-মাংস খাবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কাউকে খাদ্যাভ্যাস বদলানোর নির্দেশ দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই। তাঁর দাবি, তিনি আসলে মণ্ডপ বা পুজোর জায়গার আশপাশে আমিষ খাবার খাওয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

Published on: Sep 11, 2026, 11:54:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজের আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গে পুজোর মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করে যাঁরা মাছ-মাংস খান, তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভেকধারী বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যকে ঘিরে বাংলায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে বাগেশ্বর বাবার দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

Howrah, Sep 04 (ANI): Bageshwar Dham Sarkar Acharya Dhirendra Krishna Shastri speaks to the media during his three-day visit to Kolkata and Howrah, in Howrah on Friday. (ANI Photo) (Debajyoti Chakraborty)
Howrah, Sep 04 (ANI): Bageshwar Dham Sarkar Acharya Dhirendra Krishna Shastri speaks to the media during his three-day visit to Kolkata and Howrah, in Howrah on Friday. (ANI Photo) (Debajyoti Chakraborty)

‘পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে?’

গ্লাসগো থেকে দেওয়া বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবা বলেন, বাড়িতে কেউ মাছ-মাংস খাবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কাউকে খাদ্যাভ্যাস বদলানোর নির্দেশ দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই। তাঁর দাবি, তিনি আসলে মণ্ডপ বা পুজোর জায়গার আশপাশে আমিষ খাবার খাওয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

বাগেশ্বর বাবার কথায়, “পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে?” তিনি জানান, তাঁর আপত্তি মূলত বলিপ্রথা এবং পুজোর পরিবেশে মাছ-মাংস খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে। নিজেকে ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি মণ্ডপে আমিষ খাবার না খাওয়ার আবেদন করেছেন বলেও দাবি করেন।

আগের মন্তব্যে শুরু হয়েছিল বিতর্ক

এর আগে বাংলায় এসে দুর্গাপুজো নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা বলেছিলেন, নবরাত্রির সময় মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাওয়া তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। তাঁর অভিযোগ ছিল, পুজোর সময়ে সেখানে নানা ধরনের আমিষ খাবার তৈরি হয়, যা তাঁর কাছে খুবই খারাপ লাগে।

এর পরেই তিনি হিন্দুদের কাছে আবেদন করেছিলেন, পুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে। এমনকি যাঁরা আমিষ খান, তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভেকধারী বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ওই বক্তব্য নিয়েই বাংলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

বিজেপির অন্দরেও বিরোধিতা

বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যের সঙ্গে প্রকাশ্যেই মতপার্থক্য জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, বাংলার ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মাছের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বাইরের কোনও ধর্মীয় ব্যক্তির বক্তব্য বাংলার মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

বিজেপির আরও কয়েকজন নেতাও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। ফলে বিষয়টি শুধু ধর্মীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, রাজনৈতিক আলোচনারও কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এবার ‘ভুল ব্যাখ্যা’র দাবি

তীব্র সমালোচনার পর এবার নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা বলেন, তাঁর বক্তব্য ভুল ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কেউ নিজের বাড়িতে মাছ-মাংস খেলে তাঁর আপত্তি নেই। তিনি শুধু পুজোর মণ্ডপের পরিবেশে আমিষ খাবার না খাওয়ার কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, “সব জীবের বাঁচার অধিকার আছে।” বলিপ্রথা তাঁর পছন্দ নয় বলেও জানান। পাশাপাশি নিজেকে বাঙালি হিসেবে তুলে ধরে স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণদেবের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি তাঁদের পরম্পরার অনুসারী এবং সেই জায়গা থেকেই পুজোর মণ্ডপে মাছ-মাংস না খাওয়ার আবেদন করেছেন।

বিতর্ক কি এবার থামবে?

বাগেশ্বর বাবার এই ব্যাখ্যার পরেও অবশ্য বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। কারণ প্রথম মন্তব্যে তিনি আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলেছিলেন। এখন তিনি বলছেন, তাঁর বক্তব্য শুধুই মণ্ডপে আমিষ খাওয়া নিয়ে। ফলে প্রথম মন্তব্য এবং বর্তমান ব্যাখ্যার মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে মাছ-মাংসের সম্পর্ক বহুদিনের সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। ফলে এই খাদ্যাভ্যাসকে ধর্মীয়তার মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। এখন বাগেশ্বর বাবার নতুন ব্যাখ্যা বিতর্কে ইতি টানে কি না, নাকি ‘পাখণ্ডী’ মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়ে, সেটাই দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More