নেপালের ভোটে Gen Z ঝড়! কুর্সিতে তরুণ ব্রিগেডের নেতা বলেন্দ্র, কে তিনি?

হিমালয়ের দেশ নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগণনা এখনও চলছে। 

Published on: Mar 06, 2026 10:02 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে নাটকীয় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। গত বছরই জেন-জি'দের (তরুণ প্রজন্ম) তীব্র আন্দোলনের জেরে ক্ষমতা হারিয়েছিল কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এবার ভোটের ফলেও বড় ধাক্কা খেতে পারে নেপালের পুরনো রাজনৈতিক শক্তিগুলি। প্রথম থেকে গণনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে জেন-জি'দের পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। ওই দলের প্রধান, কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ ঝাপা-বহু আসনে এগিয়ে থেকে ভোট জিতে নিয়েছেন।

নেপালে Gen Z ঝড়! (PTI03_05_2026_000219A) (PTI)
নেপালে Gen Z ঝড়! (PTI03_05_2026_000219A) (PTI)

হিমালয়ের দেশ নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগণনা এখনও চলছে। তবে তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়া বলেন্দ্র শাহ-র দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এখনও পর্যন্ত কাঠমান্ডুর দাপটে উড়িয়েছেন দলী.য় নিশান। এদিকে, দ্বিতীয় স্থানে (বেলার দিকে পাওয়া খবর অনুসারে) রয়েছেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-এর (ইউএমএল) প্রধান কেপি শর্মা ওলি। ক্ষমতাচ্যুত ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল বর্তমানে মাত্র পাঁচটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস, যার নেতৃত্বে রয়েছেন গগন থাপা, তারা চারটি আসনে লিড করছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কোমল দহল (প্রচণ্ড)-এর নেতৃত্বাধীন দল সেভাবে দাপট দেখাতে পারেনি। রাজতন্ত্রপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিও ভোটযুদ্ধে ছিল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রঞ্জু দর্শনা, গণেশ পারাজুলি এবং বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা এই তিনটি আসনে জয়ী হয়েছেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেনি নেপালের নির্বাচন কমিশন। মোট ১৬৫টি আসন এফপিটিপি পদ্ধতিতে এবং বাকি ১১০টি আসন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বৃহস্পতিবার। এফপিটিপি-র জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করেন ৩৪০৬ জন প্রার্থী। পিআর-এর জন্য ছিলেন ৩১৩৫ জন। নেপালের সংবিধান প্রণেতাদের ব্যাখ্যা ছিল, দু’টি পদ্ধতি রাখার উদ্দেশ্য হল, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং সমাজে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখা। এ ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক ভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হয়। ফলে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়ে। তবে প্রাথমিক গণনায় ইঙ্গিত যে, বলেন্দ্রর দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করতে চলেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল. মাত্র চার বছর আগে ২০২২ সালে গঠিত হয় আরএসপি ৷ সে বছর নির্বাচনে বলেন্দ্র শাহর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি মাত্র চতুর্থ স্থানে ছিল। কিন্তু এবার প্রাথমিক ফলাফলেই স্পষ্ট, নেপালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

বলেন্দ্র শাহ কে?

বলেন্দ্র শাহের প্রথম পরিচিতি ব়্যাপার হিসেবে। পরে তিনি রাজনীতিতে আসেন। হিমালয়ন হোয়াইট হাউস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পাশ করেন বলেন্দ্র শাহ। তারপর কর্ণাটকের ভিটিইউ থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছেন। টেলিভিশন উপস্থাপকও ছিলেন। তারপর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। গত ডিসেম্বরেই নামী টিভি উপস্থাপক তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রবি লামিছানের নেতৃত্বে আরএসপিতে যোগ দেন। ২০২২ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর মেয়র হিসেবেও নির্বাচিত হন বলেন্দ্র শাহ। ওলি সরকারের পতনের পর বলেন্দ্রকেই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করতে চাইছিল জেন-জি বিক্ষোভকারীদের একাংশ। তবে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন নেপাল সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী।

কী বলছে ভারত?

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারত নেপালে শান্তি, অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতাকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য নেপালের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ ভারত। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেই নেপালে বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়। তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি বিক্ষোভের জেরে পতন ঘটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের। এর তিন দিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।