Bangladesh Army Ex Officers Arrested: আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ! ঢাকায় ধৃত ২ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা
ধৃতদের নাম দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া এবং কাজী গুলশান আরা। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে তাঁদের গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গ্রেপ্তার হলেন সেনাবাহিনীর দুই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলার সূত্রে রবিবার রাতে তাঁদের আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিবি। ধৃতদের নাম দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া এবং কাজী গুলশান আরা। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে তাঁদের গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশের সূত্রকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে নাকি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই দুই প্রাক্তন সেনাকর্তাকে। ফলে এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কোথা থেকে গ্রেপ্তার?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার, ১১ অক্টোবর রাতে ঢাকার দুটি পৃথক জায়গায় অভিযান চালায় ডিবি। সেই অভিযানেই দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই মামলাগুলির অভিযুক্ত কাজী গুলশান আরার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঠিক কী ধরনের কাজের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ
এই গ্রেপ্তারের পিছনে রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিবির একটি সূত্রের দাবি, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার ষড়যন্ত্রে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওই দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার যোগাযোগ থাকার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মামলার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁদের কথিত যোগাযোগের বিষয়টি এখনও তদন্তকারী সূত্রের দাবি হিসাবেই বিবেচনা করা উচিত।
এখনও স্পষ্ট নয় সাইবার অপরাধের অভিযোগ
দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা রয়েছে। কিন্তু এই মামলাগুলির সঙ্গে ঠিক কোন ঘটনা জড়িত, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও পোস্ট, অনলাইন প্রচার, নাকি অন্য কোনও কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়েও পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
সাধারণত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুরুতর নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করা হয়। অন্য দিকে, সাইবার নিরাপত্তা আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়। তবে এই দুই আইনে মামলা থাকার অর্থই অভিযুক্তরা দোষী, এমন নয়। তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযোগের প্রকৃতি এবং তার প্রমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর
এই ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তদন্তে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এবং তাঁদের আদালতে পেশ করার পরে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা এখনও জানার অপেক্ষা।
সব মিলিয়ে, ঢাকায় দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এই ঘটনার পিছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


