Bangladesh Army Latest Update: US সফরকালে সেনাপ্রধানের পদ থেকে ওয়াকারের বিদায় ঘিরে জল্পনা! অস্বস্তিতে পড়ে মুখ খুলল ISPR

সেনাপ্রধানের পদ থেকে ওয়াকারকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে ওয়াকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও নানা দাবি ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে। সেই আবহে অস্বস্তিতে পড়ে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জারি করা হল বিবৃতি।

Published on: Oct 11, 2026, 07:56:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা। সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় গিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই সেনাপ্রধানের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে ওয়াকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও নানা দাবি ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে। সেই আবহে অস্বস্তিতে পড়ে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জারি করা হল বিবৃতি। সেনাপ্রধানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয় সেই বিবৃতিতে।

সেনাপ্রধানের পদ থেকে ওয়াকারকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সেনাপ্রধানের পদ থেকে ওয়াকারকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিদেশ সফরে সেনাপ্রধান, ঢাকায় জল্পনা

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ওয়াকার। তাঁর সফরসূচি ন'দিনের। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সেনাবাহিনী সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। মেলবোর্নের ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়েও যাওয়ার কথা রয়েছে। এর পরে আমেরিকার ওয়াশিংটনে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের। দুই দেশের প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও তাঁর সফরের কর্মসূচির অংশ।

কিন্তু ওয়াকারের বিদেশ সফরের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওয়াকারকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে বিদেশ মন্ত্রকে অন্য দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের কয়েকটি সূত্রের কথা উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এই দাবি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই সেনাপ্রধানকে সরানোর জল্পনা ঘিরে আরও বাড়তে থাকে গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত অস্বস্তিতে থাকা সেনার তরফ থেকে আইএসপিআর মুখ খুলল।

তারেকের সঙ্গে দূরত্বের গুঞ্জন

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে সেনাপ্রধানের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের পোস্টে। সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্তরে রদবদল এবং আধিকারিকদের বদলি নিয়েও বিতর্কের খবর সামনে এসেছে। নবভারত টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেনাপ্রধানের ক্ষমতা ও প্রভাব কমানোর চেষ্টা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যদিও এই দাবিগুলির সবকটির স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সরকার ও সেনাপ্রধানের মধ্যে সংঘাতের বিষয়টিও আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত নয়।

এই পরিস্থিতিতে ১০ অক্টোবর রাতে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর। তাতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি এবং সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

বিবৃতি দিয়েও কি বিতর্ক থামবে?

আইএসপিআর জানিয়েছে, সেনাবাহিনী শক্তিশালী নেতৃত্ব, পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান সম্পর্কে কোনও তথ্য জানার ক্ষেত্রে সরকারি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের উপর নির্ভর করার আবেদনও জানানো হয়েছে।

তবে বিবৃতিতে সেনাপ্রধানকে সরানোর জল্পনা বা তারেক সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির পৃথক ভাবে উত্তর দেওয়া হয়নি। ফলে সেনাবাহিনীর এই বার্তা জল্পনার অবসান ঘটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আপাতত ওয়াকারকে সরানোর কোনও নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা নেই। কিন্তু তাঁর বিদেশ সফরের মধ্যেই সেনাবাহিনীর এমন বিবৃতি ঢাকার ক্ষমতার অলিন্দে চলা আলোচনা আরও উস্কে দিয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More