Bangladesh Border Update: বাংলাদেশ সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে মিজোরাম, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত

লংতলাইয়ের ডেপুটি কমিশনার ডনি লালরুয়াতসাঙ্গার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন লাই অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (LADC)-এর প্রতিনিধিরা, অসম রাইফেলস, মিজোরাম পুলিশ, বিভিন্ন গ্রাম পরিষদের সদস্য এবং একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

Published on: Jul 18, 2026, 13:54:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bangladesh Border Update: মায়ানমার ও বাংলাদেশের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্ত জেলা লংতলাইয়ে (Lawngtlai) অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং নথিহীন বিদেশি নাগরিকদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিল মিজোরাম প্রশাসন। ১৭ জুলাই জেলা সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, উদ্বাস্তু ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মায়ানমার ও বাংলাদেশের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্ত জেলা লংতলাইয়ে (Lawngtlai) অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং নথিহীন বিদেশি নাগরিকদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিল মিজোরাম প্রশাসন। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে এএফপি)
মায়ানমার ও বাংলাদেশের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্ত জেলা লংতলাইয়ে (Lawngtlai) অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং নথিহীন বিদেশি নাগরিকদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিল মিজোরাম প্রশাসন। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে এএফপি)

লংতলাইয়ের ডেপুটি কমিশনার ডনি লালরুয়াতসাঙ্গার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন লাই অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (LADC)-এর প্রতিনিধিরা, অসম রাইফেলস, মিজোরাম পুলিশ, বিভিন্ন গ্রাম পরিষদের সদস্য এবং একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা। সীমান্তবর্তী এই জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বৈঠকে লাই অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার সি লালসাওমজুয়ালা বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে হলে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার, গ্রাম পরিষদ, চার্চ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নথিহীন অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্য চলতে থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর পড়তে পারে।

তিনি অসম রাইফেলসকেও ভারত-মায়ানমার সীমান্তে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, সীমান্তবাসীদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডেপুটি কমিশনার ডনি লালরুয়াতসাঙ্গা বৈঠকে জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী জেলায় আশ্রয় নেওয়া উদ্বাস্তুদের বায়োমেট্রিক নথিভুক্তিকরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রশাসন সীমান্ত পেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় সংরক্ষণ করতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের অবস্থান ও কার্যকলাপের উপর নজরদারি সহজ হয়।

তিনি জেলার সমস্ত গ্রাম পরিষদ এবং হোটেল মালিকদের নির্দেশ দেন, কোনও উদ্বাস্তু বা নথিহীন বিদেশি নাগরিক এলাকায় থাকলে তাঁদের অবশ্যই যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই বেআইনিভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, চার্চ এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের উদ্বাস্তু ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে সহযোগিতার আবেদন জানান।

বৈঠকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলা এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি খসড়া স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) নিয়েও আলোচনা হয়। প্রশাসনের দাবি, এই এসওপি কার্যকর হলে সীমান্ত জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক লেনদেনের উপর আরও কার্যকর নজরদারি সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উদ্বাস্তু প্রবাহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে লংতলাইয়ের মতো জেলায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্য বজায় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম বড় লক্ষ্য।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More