কলকাতা থেকে ঘুরপথে বিমান! স্পাইসজেটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করল বাংলাদেশ, কারণ কী?

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, এনিয়ে দ্রুত সমাধান হবে বলেই জানিয়েছেন সংস্থার মুখপাত্র।

Published on: Feb 19, 2026, 21:57:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বকেয়া ফি পরিশোধ না করায় ভারতীয় বিমান সংস্থা স্পাইসজেটকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল বাংলাদেশ। এর ফলে সংস্থাটির বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ রুটের উড়ানের সময়ের সঙ্গে দূরত্ব ও খরচ বেড়ে গেল।

স্পাইসজেটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করল বাংলাদেশ (Representational photo)
স্পাইসজেটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করল বাংলাদেশ (Representational photo)

সূত্রের খবর, স্পাইসজেটের বকেয়া আদায় করতে না পেরে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই পদক্ষেপ করেছে। আকাশসীমা ব্যবহারে বাংলাদেশের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে স্পাইসজেটের পূর্বমুখী কিছু ফ্লাইট এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করছে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প করিডোর ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা–গুয়াহাটি ও কলকাতা–ইম্ফল রুটের ফ্লাইটগুলো বাংলাদেশ আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে।

বিকল্প করিডর ও খরচ বৃদ্ধি

এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারায় স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প রুটে চলতে হচ্ছে। বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা ও ঘুরপথে চলাচলের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প দূরত্বের পূর্বাঞ্চলীয় রুটে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ওভারফ্লাইট অনুমতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন স্পাইসজেট আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে শেষ তিনমাসে ২৬৯.২৭ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে সংস্থার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাড়তি খরচ ও বিশেষ কয়েকটি এককালীন ব্যয়ের কারণে এই লোকসান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কী বলছে বিমান সংস্থা?

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, এনিয়ে দ্রুত সমাধান হবে বলেই জানিয়েছেন সংস্থার মুখপাত্র। বিষয়টি নিয়ে স্পাইসজেটের একজন মুখপাত্র জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন,‘পরিচালনাগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয়, যার মধ্যে ন্যাভিগেশন সংক্রান্ত চার্জও রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা চলছে। এগুলো শিল্পখাতের স্বাভাবিক বিষয়। সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা গঠনমূলকভাবে কাজ করছি। আমাদের ফ্লাইট পরিচালনায় কোনও প্রভাব পড়েনি এবং আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি মেনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি।’ তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের উপর আরোপ করা এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে পরিচালন ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

শেয়ার বাজারে কী প্রভাব?

শেয়ার মার্কেটে এই খবরের প্রভাব খুব বেশি পড়েনি। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার বিকেলের লেনদেনে স্পাইসজেটের শেয়ার প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৬.৮১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চললেও নতুন এই পরিস্থিতি স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থাটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।