Bangladesh Ex Air force Chief Arrested: কাতারে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান শেখ আবদুল হান্নান
দুদকের তদন্তে শেখ আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে আয়ের পরিচিত উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, তাঁর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৪ কোটি ৮ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম।
বাংলাদেশের প্রাক্তন বায়ুসেনাপ্রধান শেখ আবদুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর তাঁকে আটক করে কাতারের কর্তৃপক্ষ। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ইন্টারপোলের ইমেলের মাধ্যমে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর আনুষ্ঠানিক ভাবে জানতে পারে কমিশন। এ বার তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছে ঢাকা।

আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পত্তির অভিযোগ
দুদকের তদন্তে শেখ আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে আয়ের পরিচিত উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, তাঁর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৪ কোটি ৮ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই মামলা দায়ের করে দুদক। দুর্নীতি দমন আইন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে এখনও তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
বিদেশেও সম্পত্তির খোঁজ
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে হান্নানের পরিবারের সম্পত্তিও। তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পত্তি অর্জন এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দাবি, স্বামীর সহায়তায় তাঁর স্ত্রী ১ কোটি ৯১ লক্ষ টাকার বেশি সম্পত্তি অর্জন করেছিলেন। তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে।
এছাড়া, কানাডা ও দুবাইয়ে হান্নানের সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁর সন্তানদের নামেও তিনটি দেশে সম্পত্তি থাকার তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে হান্নান ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অর্থ জব্দ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই সম্পত্তিগুলির দেখভালের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক।
কী ভাবে দেশ ছাড়লেন প্রাক্তন বায়ুসেনাপ্রধান?
হান্নানের বিদেশে চলে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির একাধিক মামলা এবং ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশ ছাড়তে সক্ষম হন। তাঁর বিদেশে থাকা সম্পত্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে ২০২৬ সালের মে ও জুন মাসে সংশ্লিষ্ট আর্থিক এবং পুলিশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দুদক। কাতার, কানাডা-সহ বিভিন্ন দেশে তাঁর সম্পত্তির তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ক্ষমতার শীর্ষ থেকে দুর্নীতির তদন্ত
বাংলাদেশের বায়ুসেনায় ১৯৮৪ সালে যোগ দিয়েছিলেন শেখ আবদুল হান্নান। ২০২১ সালের ১২ জুন তিনি বায়ুসেনার ১৬তম প্রধানের দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ১১ জুন অবসর গ্রহণ করেন তিনি। ফলে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর এক প্রাক্তন শীর্ষকর্তার বিদেশে গ্রেপ্তারির ঘটনা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
দুদকের সচিব সৈয়দুর রহমান খান জানিয়েছেন, হান্নানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং দুদক সমন্বয় করে কাজ করছে। কাতার ও সুইৎজারল্যান্ড-সহ বিভিন্ন জায়গার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে তাঁকে কবে বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এখন নজর, কাতারের আইনি প্রক্রিয়া শেষে হান্নানকে বাংলাদেশে ফেরানো যায় কি না এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কতটা প্রমাণ সামনে আসে। তাঁর গ্রেপ্তারি বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণের উপর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


