ছাড়পত্র দিল না বাংলাদেশের তারেক সরকার! পুজোর আগে পদ্মার ইলিশ কি তবে অনিশ্চিত?
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের বক্তব্য, ভারতে ইলিশ পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ডিম ভর্তি ইলিশ যে ভাবে পাঠানো হচ্ছিল, সেটিও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
দুর্গাপুজো আর বাঙালির পাতের ইলিশ, এই দুই যেন বহু বছরের সম্পর্ক। পুজোর বাজারে অন্য সব মাছের ভিড়েও পদ্মার রুপোলি ইলিশের আলাদা কদর থাকে। কিন্তু এ বার সেই চেনা ছবি দেখা যাবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানোর জন্য আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত ঢাকার তরফে কোনও অনুমতি মেলেনি বলে দাবি মাছ আমদানিকারকদের।

ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের বক্তব্য, ভারতে ইলিশ পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ডিম ভর্তি ইলিশ যে ভাবে পাঠানো হচ্ছিল, সেটিও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
প্রতি বছর পুজোর আগে বাংলাদেশের ইলিশ এ পারে আসা অনেকটা উৎসবেরই অংশ হয়ে উঠেছে। গত বছর প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ ভারতে এসেছিল বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। ফলে এ বারও পুজোর বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের অপেক্ষায় ছিলেন বহু ক্রেতা ও ব্যবসায়ী। কিন্তু অনুমতি না মেলায় সেই আশা এখন ধীরে ধীরে ফিকে হচ্ছে।
দুই বাংলার ইলিশ বাণিজ্যের ইতিহাসেও রয়েছে একাধিক বাঁক। ২০১১ সালে তিস্তা জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মতবিরোধের সময় বিষয়টি বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এর পর ২০১২ সালের ১ অগস্ট বাংলাদেশ সব ধরনের মাছ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে দীর্ঘ সময় এ পারে বাংলাদেশের ইলিশ পাওয়া যায়নি।
পরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা স্থিতি ফেরার পর ২০১৯ সালে ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সময় থেকে দুর্গাপুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা এবং ভারতের অন্য বাজারে ইলিশ আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুজোর আগে বিশেষ উপহার হিসাবেও বিষয়টি পরিচিত হয়ে ওঠে।
কিন্তু এ বার পরিস্থিতি অন্য রকম। মাছ আমদানিকারকদের মতে, হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। তার উপর আগামী ৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রে ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে। ফলে দ্রুত রফতানির অনুমতি না এলে পুজোর বাজারে পদ্মার ইলিশ পৌঁছনো কঠিন হতে পারে।
কেন এখনও ছাড়পত্র মিলল না, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা অবশ্য পাওয়া যায়নি। মাছ আমদানিকারকদের একাংশের ধারণা, এর পিছনে রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, চলতি বছরে বাংলাদেশ গুজরাট থেকে প্রায় ৫৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি করেছে। ফলে ভারতে পদ্মার ইলিশ পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে এই বাণিজ্যিক সমীকরণও কাজ করতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


