Bangladesh Hilsa import from Gujarat: বাংলাদেশ আমদানি করছে গুজরাতের ইলিশ! পদ্মায় মাছ কম, তাই ভারতের দিকে তাকিয়ে ঢাকা

তথ্য অনুযায়ী, গত দু’মাসে ভারত থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। এই মাছের একটা বড় অংশ এসেছে গুজরাত থেকে। গুজরাতের ভারুচ বন্দরের মাধ্যমে ইলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজার থেকেও বাংলাদেশে মাছ রপ্তানি হয়েছে।

Published on: Sep 13, 2026, 08:16:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bangladesh Hilsa import from Gujarat: বাঙালির পাতে ইলিশ মানেই আলাদা আনন্দ। দুর্গাপুজোর সময় সেই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশেও ইলিশের কদর কম নয়। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশের স্বাদের খ্যাতি রয়েছে দুই বাংলাতেই। কিন্তু এবার ছবিটা কিছুটা উল্টো। বাংলাদেশেই ইলিশের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই ঘাটতি মেটাতে ভারতের দিকে তাকাতে হচ্ছে ঢাকাকে। আর সেখানেই সামনে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। বাংলাদেশে যাচ্ছে গুজরাতের ইলিশ।

গত দু’মাসে ভারত থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে।
গত দু’মাসে ভারত থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে।

গত দু’মাসে গিয়েছে প্রায় ৫০০ টন

তথ্য অনুযায়ী, গত দু’মাসে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। এই মাছের একটা বড় অংশ এসেছে গুজরাত থেকে। গুজরাতের ভারুচ বন্দরের মাধ্যমে ইলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজার থেকেও বাংলাদেশে মাছ রপ্তানি হয়েছে। অর্থাৎ, এবার বাংলাদেশের বাজারে শুধু পদ্মার ইলিশের উপর নির্ভরতা থাকছে না। ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ইলিশও ঢুকছে সেখানে।

বাংলাদেশে কমেছে ইলিশের জোগান?

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বড় ইলিশ উৎপাদক দেশ। পদ্মা-সহ বিভিন্ন নদী থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা হয়। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, মোট ইলিশের বড় অংশ বাংলাদেশি জেলেরাই ধরেন। কেউ কেউ এই অংশ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বলে থাকেন।

কিন্তু এবার ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পদ্মাতেও মাছের জোগান কমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ মিলছে না। আর সেই ঘাটতি পূরণেই ভারতের মাছের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ।

হাওড়া থেকেও যাচ্ছে ইলিশ

হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এবার প্রথমবারের মতো হাওড়া বাজার থেকে ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। সাধারণত হাওড়া থেকে বাংলাদেশে রুই, পারসে এবং ট্যাংরার মতো মাছ পাঠানো হয়। কিন্তু এবার ইলিশের ঘাটতির কারণে সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ইলিশও। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে ইলিশের চাহিদা রয়েছে। সেই কারণে হাওড়া বাজার থেকেও মাছ পাঠানো হয়েছে।

গুজরাতের ইলিশ কেন?

সবচেয়ে বেশি চমক রয়েছে গুজরাতের ইলিশ নিয়ে। এক বাংলাদেশি মাছ ব্যবসায়ীর বক্তব্য অনুযায়ী, এবার গুজরাতে ইলিশের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে সেখানে মাছের জোগান তুলনামূলক বেশি। এই ইলিশের দামও তুলনামূলক কম। কারণ গুজরাতের মাছের মধ্যে ডিম থাকা ইলিশের পরিমাণ বেশি বলে তিনি জানিয়েছেন। এই কারণেই সেই মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।

ডিম আলাদা করে বিক্রিরও চাহিদা

জানা গিয়েছে, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো এলাকায় ইলিশের ডিমও আলাদা করে বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় নোনা মাছ খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। ফলে গুজরাতের ইলিশের বাজার তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী মহলের দাবি, ভবিষ্যতে আরও গুজরাতের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে।

আরও ১০০ থেকে ১৫০ টন পাঠানোর প্রস্তুতি

সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, আরও প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। অর্থাৎ, সামনে আরও ভারতীয় ইলিশ ঢুকতে পারে বাংলাদেশের বাজারে। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, দুর্গাপুজোর সময়ে এপার বাংলার বাঙালির পাতে কি তাহলে পদ্মার ইলিশ সহজে মিলবে? বাংলাদেশে যদি উৎপাদন ঘাটতি থেকেই যায়, আর ভারতীয় ইলিশের রপ্তানি বাড়তে থাকে, তাহলে পুজোর বাজারে পদ্মার ইলিশের জোগান কতটা থাকবে, সেটাই এখন দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More