Bangladesh in Islamic Nato: সৌদি-পাক-তুরস্কের ‘ইসলামিক ন্যাটো’-তে বাংলাদেশও? বড় ইঙ্গিত ঢাকার

গত ৭ অগস্ট মক্কায় বৈঠক করেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানেই স্বাক্ষরিত হয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

Published on: Aug 21, 2026, 08:42:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই নতুন করে নজরে বাংলাদেশ। ঢাকার তরফে ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আর এই বার্তাতেই কূটনৈতিক মহলে বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ।

গত ৭ অগস্ট মক্কায় বৈঠক করেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব, সেই জোটে কি এবার বাংলাদেশ?
গত ৭ অগস্ট মক্কায় বৈঠক করেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব, সেই জোটে কি এবার বাংলাদেশ?

গত ৭ অগস্ট মক্কায় বৈঠক করেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানেই স্বাক্ষরিত হয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এই চুক্তিকেই অনেকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে উল্লেখ করছেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এখনই এটিকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ এই জোটের কাঠামো, যৌথ সামরিক ব্যবস্থা বা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এখনও ন্যাটোর মতো নয়।

তবে বাংলাদেশের অবস্থানই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দেশের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ঢাকা এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ইতিবাচক ভাবে ভাবছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না বাংলাদেশ।

এই বার্তা এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বার বার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জানাচ্ছে। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। দিল্লি জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুধু প্রত্যর্পণ নয়। সীমান্ত, বাণিজ্য, ভিসা এবং জলবণ্টন নিয়েও দুই দেশের মধ্যে একাধিক জটিলতা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ার সম্ভাবনা দিল্লির নজরে রয়েছে। ভারতীয় সূত্রগুলিও ঢাকার সম্ভাব্য কৌশলগত ঝোঁক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এরই মধ্যে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অগস্টের মাঝামাঝি দুই দেশের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু ঢাকার বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা এবং উপযুক্ত কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি না হলে এই সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করা হবে না। এই সবের মাঝে আবার তারেককে সৌদি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রিন্স সলমন।

অর্থাৎ এক দিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা চলছে। অন্য দিকে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদির নতুন প্রতিরক্ষা সমীকরণের দিকেও নজর রাখছে ঢাকা। এই দ্বিমুখী কূটনীতি আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের জন্য বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দু’দেশের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগও গভীর। ফলে ঢাকার প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় কোনও পরিবর্তন এলে তার প্রভাব সরাসরি ভারতের উপর পড়তে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More