Bangladesh Latest Update: বাংলাদেশ কি ইসলামিক ন্যাটোতে যোগ দেবে? তারেক রহমানের গতিবিধি ঘিরে জল্পনা
সম্প্রতি মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরব যৌথ সামরিক জোটে যুক্ত হতে চুক্তিতে সই করে। সেই জোটকেই 'ইসলামিক ন্যাটো' বলে ডাকা হচ্ছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের কোনও একটিতে যদি হামলা হয়, তাহলে তা তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভারত আমন্ত্রণ জানালেও দিল্লি সফরে আসার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত নেননি তারেক রহমান। বরং শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শর্ত চাপিয়ে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ঢাকা। এই সবের মাঝেই এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরবের সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রিন্স সলমনের তরফ থেকে। এই আবহে বাংলাদেশের ইসলামিক ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরব যৌথ সামরিক জোটে যুক্ত হতে চুক্তিতে সই করে। সেই জোটকেই 'ইসলামিক ন্যাটো' বলে ডাকা হচ্ছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের কোনও একটিতে যদি হামলা হয়, তাহলে তা তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে মক্কায় এই চুক্তি সইয়ের পরপরই তুরস্কের তরফ থেকে দাবি উঠছিল, বাংলাদেশও যাতে এই জোটে যোগ দেয়। এই মর্মে তুরস্কের 'ইয়েনি সাফাক' নামের একটি সংবাদপত্রে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। বাইলাইন বিহীন সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ যদি সৌদি-পাক-তুরস্কের জোটে যুক্ত হয়, তাহলে ভারতের জন্য তা অস্বস্তির হবে। উল্লেখ্য, ইয়েনি সাফাক নামে এই সংবাদপত্রটি আদতে ইসলামি কট্টরপন্থায় বিশ্বাসী এবং এরদোয়ান সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
এদিকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন হুথি বিরোধী জোটে রয়েছে। সেই জোটে আছে পাকিস্তানও। এই সবের মাঝে তারেক রহমানকে সৌদি প্রিন্সের আমন্ত্রণে শুরু হয়েছে জল্পনা। রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার ঢাকায় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তারেককে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগেই ভারত সফরের জন্য হাসিনার প্রত্যর্পণের কঠিন শর্ত চাপিয়েছিল ঢাকা।
জানা যায়, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ডঃ আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সৌদি আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাতের সময় দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। ফলে এই সাক্ষাৎকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক সৌদি আরবে কাজ করেন। পাশাপাশি প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যান। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমবাজার, প্রবাসীকল্যাণ এবং ধর্মীয় সফর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য সৌদি সফরের আমন্ত্রণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


