Bangladesh on Ganga Water Pact: নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় ঢাকা! গঙ্গার জল নিয়ে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এর দাবি বাংলাদেশের

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল। ৩০ বছরের জন্য করা সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার জলপ্রবাহের ভিত্তিতে মূলত শুষ্ক মরসুমে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত, নির্দিষ্ট সূত্র মেনে দুই দেশের মধ্যে জল ভাগ করা হয়।

Published on: Sep 24, 2026, 14:05:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bangladesh on Ganga Water Pact: পুরনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নয়, গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে একেবারে নতুন সমঝোতা চায় বাংলাদেশ। সেই নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন সে দেশের জলসম্পদমন্ত্রী মহম্মদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বৃহস্পতিবার ঢাকায় নদী সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।

পুরনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নয়, গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে একেবারে নতুন সমঝোতা চায় বাংলাদেশ।
পুরনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নয়, গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে একেবারে নতুন সমঝোতা চায় বাংলাদেশ।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল। ৩০ বছরের জন্য করা সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার জলপ্রবাহের ভিত্তিতে মূলত শুষ্ক মরসুমে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত, নির্দিষ্ট সূত্র মেনে দুই দেশের মধ্যে জল ভাগ করা হয়। প্রতি ১০ দিনের হিসাব ধরে জল বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে ওই চুক্তিতে।

চুক্তিতে জলপ্রবাহের পরিমাণ অনুযায়ী ভারত ও বাংলাদেশের ভাগ নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলাও রয়েছে। বাংলাদেশে গঙ্গা ‘পদ্মা’ নামে পরিচিত। নদীর জলের প্রাপ্যতা কমে গেলে দুই দেশের ভাগও সেই অনুপাতে নির্ধারিত হয়। একই সঙ্গে চুক্তিতে মার্চের ১১ তারিখ থেকে মে মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত নির্দিষ্ট তিনটি দশদিনের পর্যায়ে দুই দেশকেই ৩৫ হাজার কিউসেক করে জলের নিশ্চয়তার কথাও রয়েছে।

এ বার ঢাকার দাবি, পুরনো ব্যবস্থাকে শুধু পুনর্নবীকরণ না করে নতুন বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে নতুন চুক্তি করা হোক। বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ থাকা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, জলবণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার এবং দেশের স্বার্থকে স্পষ্ট ভাবে সুরক্ষা দিতে হবে।

বাংলাদেশের এই অবস্থানের পিছনে রয়েছে নদী ও জলসম্পদ নিয়ে দীর্ঘ দিনের উদ্বেগ। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানেও এ্যানি বলেন, দেশের অর্থনীতির সঙ্গে নদীগুলির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কিন্তু শিল্পায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীগুলির উপর চাপ বাড়ছে। শুধু জলবণ্টন নয়, নদী দূষণের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন।

এদিকে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান কী? লোকসভায় ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হবে এবং তখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে চুক্তি নবীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। এর আগে অবশ্য দুই দেশই চুক্তি নবীকরণ নিয়ে প্রযুক্তিগত স্তরে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিল।

ফলে সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। পুরনো চুক্তিই কি কিছুটা বদলে ফের স্বাক্ষরিত হবে, নাকি একেবারে নতুন কাঠামোয় জলবণ্টনের সমঝোতা হবে? বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ থাকলে তার শর্ত কী হবে? আর ফারাক্কায় জলের প্রাপ্যতা, নদীর প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুই দেশের নিজস্ব চাহিদা—সব মিলিয়ে নতুন সমীকরণ কী ভাবে তৈরি হবে? ডিসেম্বরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় সেই উত্তরই খুঁজে দেখতে হবে।

গঙ্গার জল নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের পুরনো সমঝোতার মেয়াদ শেষের মুখে। তার মধ্যেই ঢাকার তরফে ‘নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি’র দাবি সামনে আসায় আগামী মাসগুলিতে জলকূটনীতিই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে চলেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More