Bangladesh on Pakistan-Afghanistan War: পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশ? মুখ খুললেন খলিলুর

খলিলুর বলেন, 'বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে নীরবে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের নিজস্ব উপায়ে বন্ধু দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে এ ধরনের সংঘাত কারও স্বার্থ রক্ষা করে না।'

Published on: Feb 28, 2026, 10:12:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিগত ইউনুস সরকারের সময়কালে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই মধুর হয়েছে বাংলাদেশের। তবে এবার বিএনপি জমানায় সেই সম্পর্ক কেমন থাকবে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। এদিকে বিগত বছরগুলিতে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আবার বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে ইউনুস জমানায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বর্তমানে তিনি আবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী। এই আবহে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে কোনদিকে ঝুঁকে বাংলাদেশ?

পাক-আফগান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে 'দুঃখজনক' আখ্যা দেন খলিলুর (REUTERS)
পাক-আফগান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে 'দুঃখজনক' আখ্যা দেন খলিলুর (REUTERS)

খলিলুরকে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'যুদ্ধ কারও জন্যই কোনও উপকার বয়ে আনে না।' তবে তিনি জানান, এই সংঘাত নিয়ে বাংলাদেশ আপাতত সরকারি ভাবে কোনও বক্তব্য দেবে না। তবে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে 'দুঃখজনক' আখ্যা দেন তিনি। এরই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এরই সঙ্গে খলিলুর বলেন, 'বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে নীরবে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের নিজস্ব উপায়ে বন্ধু দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে এ ধরনের সংঘাত কারও স্বার্থ রক্ষা করে না।'

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। আর এবার আফগান সীমান্তের কাছে টিটিপি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More