India-Bangladesh Relations: জ্বালানি সংকটের 'ত্রাতা'! রুশ তেল ভারতে শোধনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের

India-Bangladesh Relations: ইরান যুদ্ধে অস্থিরতার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখনেও অস্থির রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

Published on: Apr 10, 2026 5:23 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India-Bangladesh Relations: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছেন। ইরান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথের ইঙ্গিতও দিয়েছে। তারপরেও গত কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষে বাংলাদেশের অবস্থা তথৈবচ। এই আবহে জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

রুশ তেল ভারতে শোধনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের (PTI)
রুশ তেল ভারতে শোধনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের (PTI)

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধন করে তা দেশে আমদানির লক্ষ্যে একটি চুক্তির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এটিকে জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের জরুরি কৌশল হিসেবে বর্ণনা করছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। ইরান যুদ্ধে অস্থিরতার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখনেও অস্থির রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই ঘটনায় বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও নতুন একটি উদ্যোগ খতিয়ে দেখছে। এর আওতায় দেশটির রিফাইনারিগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধন, এলপিজি টার্মিনাল স্থাপন এবং এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে কর্মকর্তারা জানান, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ঘিরে এই দ্বিমুখী কৌশল মূলত মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা কমানো এবং দেশের নিজস্ব শোধন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তারা আশা করছেন, বিদেশি শোধন সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

ভারতে রাশিয়ার তেল শোধনের পরিকল্পনা

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হাতে আসা আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে একটি ফাইল পাঠিয়েছে। এতে ভারতের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল শোধনের বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে বিদেশ মন্ত্রকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায়, ভারত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে, নিজেদের রিফাইনারিতে তা শোধন করবে এবং পরিশোধিত পণ্য আবার বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। এক্ষেত্রে ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যয়, পরিশোধনের চার্জ এবং পরিবহন খরচ-বাংলাদেশ বহন করবে। কর্মকর্তারা জানান, বৈশ্বিক বাজারে দামের অস্থিরতা সামাল দিতে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ জরুরি। ভারত ইতিমধ্যে রাশিয়ার তেল আমদানি করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে তা পরিশোধন করে, আবার রপ্তানিও করে থাকে। ফলে এ ধরনের ব্যবস্থায় দেশটি কার্যকর অংশীদার হতে পারে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও এই উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই রিফাইনারির বার্ষিক সক্ষমতা ১৫ লক্ষ টন এবং এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল শোধনের উপযোগী। ভারী রাশিয়ান ক্রুড প্রক্রিয়াকরণে এটি তুলনামূলকভাবে খুব একটা উপযুক্তও নয়। ফলে ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পণ্যের জন্য বাংলাদেশকে আমদানির ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করেছে ৬৬ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। কর্মকর্তাদের মতে, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশের রিফাইনিং সক্ষমতা ব্যবহার করলে এই ব্যয় কমানো এবং সরবরাহ স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।

ভারতের সঙ্গে ডিজেল আমদানি সহযোগিতা

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে। নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ডিজেল আমদানির জন্য শিলিগুড়ি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত একটি আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন রয়েছে, যা ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত ১৫ বছরের চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যা চুক্তির ১ লক্ষ ৮০ হাজার টনের তুলনায় কম। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাকি ৬০ হাজার টন সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।