Litton Das explosive remarks: 'পাকিস্তানে তো বন্দুক নিয়ে...'. ভারতে WC না খেলা নিয়ে ইউনুসের মুখোশ খুললেন লিটন
Litton Das explosive remarks: লিটন দাস আরও বলেন, 'যদি আমরা পাকিস্তানে খেলতে পারি, তাহলে ভারতে কেন পারব না?' তাঁর এই মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে যখন এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তখন তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছিলেন।
Litton Das explosive remarks: ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অভিযোগ ছিল, ভারতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। আইসিসি এবং বিসিসিআই বারবার আশ্বাস দিলেও বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি। বাংলাদেশের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। ফলে বিশ্বকাপের সূচি ও প্রতিযোগিতার কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই কী বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করেছিল? নাকি সিদ্ধান্তের পিছনে অন্য কারণও ছিল?

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিটন দাস বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে তাঁরা টুর্নামেন্টে খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্ব তাঁদের হয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি ইঙ্গিত দেন, তাঁরা পাকিস্তানে গিয়ে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতিতেও খেলেছেন, তাই ভারতে খেলতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। বাংলাদেশের টি-২০ অধিনায়ক বলেন, 'আমরা বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছিলাম এবং চা খেয়েছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে চা পান করা। সেখানে আমাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমরা কী চাই! একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা কী চাই? আমরা কোনও ঝামেলা চাই না। স্বাভাবিকভাবেই আমরা খেলতে চাই। তারা আমাদের বলেছিল, ভারতে নিরাপত্তা নেই। তখন আমরা বলেছিলাম, আমরা তো পাকিস্তানেও খেলেছি। সেখানে আমাদের রুমের বাইরে অস্ত্র হাতে নিরাপত্তারক্ষীরা দাঁড়িয়ে থাকত। এর চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আর কী হতে পারে?'
লিটন দাস আরও বলেন, 'যদি আমরা পাকিস্তানে খেলতে পারি, তাহলে ভারতে কেন পারব না?' লিটনের এই মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে যখন এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তখন তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, 'আপনি কী নিশ্চিত যে আমরা বিশ্বকাপ খেলব? আমার পক্ষ থেকে আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারি না। সবাই বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে পুরো বাংলাদেশই বিভ্রান্ত। কোনও উত্তর নেই। আমি বুঝতে পারছি আপনি কী জানতে চাইছেন, কিন্তু এ বিষয়ে কথা বলা আমার জন্য নিরাপদ নয়। তাই কোনো মন্তব্য নেই।' ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি ভারতে ম্যাচ খেলতে অনীহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে বিসিবি একটি ‘হাইব্রিড মডেল’-এর প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাবে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়, যাতে দলটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর জানায়, ভারতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের প্রস্তাব নাকচ করে দেয় সংস্থাটি। পরে আইসিসি বিসিবিকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অথবা পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নিতে বলে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু লিটন দাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর বাংলাদেশের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের মতামত, বিসিবির ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।
E-Paper

