Bangladesh Teesta Masterplan Explained: বাংলাদেশের তিস্তা মাস্টার প্ল্যানে ভারতের উদ্বেগ ঠিক কোথায়?

বাংলাদেশের সরকার ইতিমধ্যেই চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার চায়না (PowerChina)-কে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য বাংলাদেশ প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে চিনের কাছ থেকে।

Published on: Jun 30, 2026 12:36 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জলসংকট নিরসন এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি আনতে ‘যে কোনও মূল্যে’ তিস্তা ব্যারাজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি জানান, তিস্তা প্রকল্পকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এটি বাস্তবায়নে কোনও আপস করা হবে না।

বাংলাদেশের সরকার ইতিমধ্যেই চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার চায়না (PowerChina)-কে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে।
বাংলাদেশের সরকার ইতিমধ্যেই চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার চায়না (PowerChina)-কে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে।

কী এই তিস্তা ব্যারাজ মাস্টার প্ল্যান?

তিস্তা ব্যারাজ মাস্টার প্ল্যান বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চাভিলাষী নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। মূল লক্ষ্য সেই দেশের উত্তরাঞ্চলের জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধ করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিস্তা নদীর নাব্যতা বাড়াতে বড় আকারে খনন করা হবে। একই সঙ্গে নদীর ওপর নতুন ব্যারাজ নির্মাণ, জলাধার তৈরি এবং বিস্তৃত সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে বর্ষার অতিরিক্ত জল সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশ সরকারের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, জলসংকট কমবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

প্রকল্পে চিনের বড় ভূমিকা

এই প্রকল্পকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক গুরুত্বও তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার ইতিমধ্যেই চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার চায়না (PowerChina)-কে মাস্টার প্ল্যান তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য বাংলাদেশ প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে চিনের কাছ থেকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার কোটিরও বেশি টাকা। চিন শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেবে বলে ঢাকার দাবি।

ভারতের উদ্বেগ কোথায়?

তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। এরপর নদীটি পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বহু বছর ধরেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি ঝুলে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে সেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বৃহৎ তিস্তা প্রকল্পে চিনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ প্রকল্পের অবস্থান ভারতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’-এর ১০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে। এই করিডরই উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, প্রকল্পে চিনা ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উপস্থিতি ভবিষ্যতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় চিনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More