Bangladeshi Terrorist: 'আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের নামে বাংলাদেশি তালিবান গঠনের ছক কষা হচ্ছে'

Bangladeshi Terrorist: ‘ফতেহ কমব্যাট সিস্টেম নামক একটি সংগঠন দেশের (বাংলাদেশের) বিভিন্ন অঞ্চলে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে যুবকদের উগ্রপন্থী করে তুলতে এবং উস্কানি দিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই চক্রটি টিটিপি-র আদলে তেহরিক-ই-তালিবান বাংলাদেশ গঠনের চেষ্টা করছে।’

Published on: Apr 27, 2026, 08:02:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bangladeshi Terrorist: শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে ইসলামি কট্টরপন্থী জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ইউনুস জমানায় যেন সেই সব জঙ্গিদের ফুলে ফেঁপে ওঠার জন্য সব ধরনের সাহায্য করা হত। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ক্ষমতায় বসেই একাধিক ভারত বিরোধী জঙ্গিকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। এদিকে ঢাকায় বসে কট্টরপন্থীরা পাক জঙ্গিদের নেতাদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলন করত। আবার পাকিস্তানি জঙ্গি নেতাদেরও পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল সেই সময়। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি কিছুটা বদলে বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে তলে তলে বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যকলাপ জারি আছে। আর এই নিয়ে বড় বিস্ফোরক দাবি করলেন সুইডেন নিবাসী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ তথা মুক্তিযুদ্ধপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার সাইফুল টিটো। তিনি দাবি করলেন, আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের নামে বাংলাদেশি তালিবান গঠনের ছক কষা হচ্ছে।

বাংলাদেশের এই আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংগঠনের সাথে নাকি আফগানিস্তান ফেরত জঙ্গিরাও জড়িত।
বাংলাদেশের এই আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংগঠনের সাথে নাকি আফগানিস্তান ফেরত জঙ্গিরাও জড়িত।

একটি সচিত্র দীর্ঘ পোস্টে সাইফুল লেখেন, 'ফতেহ কমব্যাট সিস্টেম নামক একটি সংগঠন দেশের (বাংলাদেশের) বিভিন্ন অঞ্চলে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে যুবকদের উগ্রপন্থী করে তুলতে এবং উস্কানি দিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই কার্যকলাপগুলো সরাসরি শাহ আমানত সব্বির নামের এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এই সংগঠনের নেটওয়ার্ক বেশ বিস্তৃত এবং এতে আফগানিস্তান ফেরত জঙ্গিরাও জড়িত। সম্মিলিতভাবে, তারা বিদেশি দাতব্য সংস্থাগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত একটি হাউজিং প্রকল্পের আড়ালে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জন্য সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়াও, এই চক্রটি টিটিপি-র আদলে তেহরিক-ই-তালিবান বাংলাদেশ গঠনের চেষ্টা করছে।'

এরপর তিনি আরও লেখেন, 'বর্তমানে ফতেহ কমব্যাট সিস্টেম খুলনা, যশোর ও চাঁদপুর জেলায়, বিশেষ করে সুতারখালী (খুলনা) এবং অভয়নগর (যশোর) উপজেলায় মার্শাল আর্ট কেন্দ্র পরিচালনা করছে। তারা স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলিতে মার্শাল আর্ট শেখাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে নিজেদেরকে বৈধ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। আর গোপনে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে টিটিপি এবং আল-কায়েদার চরমপন্থা ছড়াচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীদের মতামত ও মনস্তত্ত্ব পর্যবেক্ষণ করে তারা একটি প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া চালায়। পরবর্তীকালে, নির্বাচিত যুবকদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যন্ত চর অঞ্চলে (যেমন কিশোরগঞ্জের নিকলির ছাতির চর ইউনিয়ন) নিয়ে যাওয়া হয়। অবশেষে টিটিপির পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য আফগানিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।' সাইফুল দাবি করেন, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শাহ আমানত সব্বির মহম্মদ মাহফুজুর রহমান, মহম্মদ হেমায়েত হোসেন, মহম্মদ শাদাত, আবু সুফিয়ান এবং আবু ওসামা। বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তিনি আবেদন করেন যাতে দ্রুত এই জঙ্গিদের আট করা হয়।

উল্লেখ্য, বিগত দিনে পাকিস্তানে টিটিপির হয়ে লড়াই করতে গিয়ে বাংলাদেশি যুবকদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে আবার দাবি করা হয়েছিল, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এই এক বছর সময়কালে হামাস এবং পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কমপক্ষে চারটি বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশের দুটি জায়গায় পর্যন্ত পাক জঙ্গি এবং হামাসের যোগাযোগ হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল সেই রিপোর্টে। এদিকে তামিলনাড়ু থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি জঙ্গিকে সম্প্রতি ধরেছিল দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল।

ডেক্কান কর্নিকলসের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়, লস্কর শীর্ষ কমান্ডার সাইফুল্লা সাইফ সম্প্রতি বাংলাদেশি সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের কয়েকদিন আগেই ঢাকার বনানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিল পাক জঙ্গি নেতা সাইফ। এদিকে ৭ জন জঙ্গি নেতা নাকি বনানীর সেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজিরও হয়েছিল। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী সংগঠন হিজবুল হাহিরের জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী, সাইফের ডান হাত তথা মার্কাজি জামাতে হাদিসের সাধারণ সম্পাদক ইলাহি জাহিররা ছিল সেখানে। এছাড়া সেখানে ছিল ঢাকা উত্তর কর্পোরেশনের সিইও এবং হিজবুল তাহিরের কোঅর্ডিনেটর মহম্মদ আজাজ, আনলারুল্লাহ বংলা টিমের হাফিজ সুজাদুল্লা এবং হাফিজ আলি ফজুল। এবং ছিল বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত সুমন আহমেদ। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের দুই আমলাও সেখানে ছিলেন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More