Bangladeshi Advisor on ICC T20 WC: গাছে তুলে মই কেড়েছে পাক, টি২০ বিশ্বকাপ না খেলতে পারা নিয়ে সুর বদল আসিফ নজরুলের

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজে একাধিকবার ঘোষণা করেছিলেন, ভারতে গিয়ে টি২০ বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এখন তিনি বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা এবং বিসিবি। 

Published on: Feb 11, 2026 1:55 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবেন না। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজে একাধিকবার এই ঘোষণা করেছেন। বিসিবির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। এমনকী আনুষ্ঠানিক ভাবে টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের দিনেও ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আসিফ নজরুল। সেখানে ক্রিকেটারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সরকার তাঁদের ভারতে খেলতে পাঠাবে না। আর সেই আসিফ নজরুলই বাংলাদেশ নির্বাচনের একদিন আগে বললেন, 'বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেটাররা এবং বিসিবি।' যদিও এর আগে বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে যাওয়া নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনও কথা বোর্ড বা সরকার করেনি।

আইসিসিকে চিঠি লিখতে বিসিবিকে নির্দেশ দিলেন ইউনুস সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আইসিসিকে চিঠি লিখতে বিসিবিকে নির্দেশ দিলেন ইউনুস সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

এদিকে বাংলাদেশকে গাছে তুলে মই কেড়ে নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানানোর নামে ভারতের সঙ্গে ম্য়াচ বয়কটের ঘোষণা করেছিল পিসিবি। তবে সেই ম্যাচ এখন হতে চলেছে। আর এরপরই সুর বদল আসিফ নজরুলের। বিশ্বকাপ না খেলতে পারা নিয়ে ইউনুসের মন্ত্রী বলেন, 'আক্ষেপের কোনও প্রশ্নই নেই। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারেরা নিয়েছিল। দেশের ক্রিকেট, সাধারণ মানুষ, দেশের সম্মান রক্ষা করার জন্য স্বার্থত্যাগ করেছে ক্রিকেটারেরা।'

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিসিআই। এই সিদ্ধান্তে চরম অপমানিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এর জেরে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছিল, টি২০ বিশ্বকাপে যেন বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে না যায়। সেই পরিস্থিতিতে ভারত খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আইসিসিকে চিঠিও লেখে বাংলাদেশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পরে আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দেয়, তাদের ম্যাচগুলি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে না। তাদের গ্রুপও অন্য কোনও দলের সঙ্গে অদলবদল করা হবে না। এরপরই ভারতকে তোপ দাগে বিসিবি সভাপতি এবং ইউনুস সরকরের ক্রীড়া উপদেষ্টা। যদিও আইসিসির ভোটাভুটিতে এক পাকিস্তান ছাড়া কেউ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি। এমনকী যে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বাংলাদেশ খেলতে চেয়েছিল, সেই শ্রীলঙ্কা নিজেরাই চায় না বাংলাদেশ তাদের দেশে গিয়ে খেলুক। এই আবহে আইসিসির ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। তাও নিজেদের পুরনো অবস্থানেই অনড় থেকে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হয়েছে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ। ৮ মার্চ টুর্মামেন্টের ফাইনাল। টুর্নামেন্টে গ্রুপ সি-তে ছিল বাংলাদেশ। তাদের গ্রুপ পরবের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায়, একটি মুম্বইতে। বিশ্বকাপ শুরুর দিনই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইডেনেই ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। আর নেপালের বিরুদ্ধে ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইতে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গ্রুপ সি-তে স্থান পেয়েছে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের বদলে সেই একই তারিখে উল্লেখিত ভেন্যুগুলিতে খেলছে স্কটল্যান্ড।