Bangladeshi Hindu Beaten: বিএনপিকে ভোট দেওয়ায় হিন্দু যুবককে মারধর বাংলাদেশের খুলনায়

খুলনা সহ বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বিএনপি সংখ্যাঘুদের ভোট পেয়েছে। এমনই ভাবে খুলনা-৫ আসনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার 'দোষে' মারধর করা হল এক হিন্দু যুবকে। জানা গিয়েছে, এই জখম যুবকের নাম সঞ্জয় সাহা।

Published on: Feb 14, 2026 9:49 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিন্দুদের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এসেছে। তবে ২০২৬ সালের ভোটে আওয়ামী লীগ ছিল না। এই আবহে বিএনপি হিন্দু ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে চেয়েছিল। এবং অনেকাংশেই তারা সফল। খুলনা সহ বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বিএনপি সংখ্যাঘুদের ভোট পেয়েছে। এমনই ভাবে খুলনা-৫ আসনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার 'দোষে' মারধর করা হল এক হিন্দু যুবকে। জানা গিয়েছে, এই জখম যুবকের নাম সঞ্জয় সাহা।

খুলনা সহ বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বিএনপি সংখ্যাঘুদের ভোট পেয়েছে। (HT_PRINT)
খুলনা সহ বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বিএনপি সংখ্যাঘুদের ভোট পেয়েছে। (HT_PRINT)

রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশে নির্বাচনের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সময় দুপুর ২টোর সময় ফুলতলার দক্ষিণপাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঘটনাটি ঘটে। এই স্কুলের ভোটকেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সঞ্জয়কে মারধর করে শামসুল ইসলাম সাগর নামে এক ব্যক্তি। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে সঞ্জয় সাহা বলেন, 'তুই মালায়ন মানুষ, ধানের শীষে ভোট দিবি ক্যান? এরপরই মারধর করে। আমার চোখে ঘুসি দেয়। পড়ে লোকজন দৌড়ে এলে সে হেঁটে চলে যায়। পুলিশ আমার থেকে তথ্য নিয়ে গিয়েছে। তবে আমি হাসপাতালে ভর্তি থাকায় এখনও অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি।'

সঞ্জয় সাহা আরও বলেন, 'আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ভোটের পড়ে আবার হামলা করতে পারে। আমি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই। তবে শামসুল আলম সাগর কোন পক্ষের লোক তা আমি জানি না।' এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় ফুলতলা থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, 'এই ঘটনা শুনে আমরা হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্তের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে।'

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে পাকপন্থী জামাতকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিল বিএনপি। জামাতকে স্বাধীনতি বিরোধী শক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তোপ দেগেছেন বিএনপি নেতারা। এর আগে অবশ্য বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থেকেছে জামাতে ইসলামি। তবে আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে জামাত। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নির্বাচন জামাতের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ছিল। তবে বিএনপির ঝড়ে তারা উড়ে যায়। এবং আওয়ামী লীগ পরবর্তী সময়ে বিএনপি-ও মুক্তিযুদ্ধে জামাতের ভূমিকাকে ইস্যু করে তুলেছে।

এই আবহে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২০০টিরও বেশি আসনে বিএনপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা জয়ী হয়েছে। তবে নিজেদের সবথেকে 'সম্ভাবনাময়' নির্বাচনে জামাতে ইসলামি জোট ৫০ পার করেছে। এবং এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া পশ্চিম বাংলাদেশ এবং উত্তর বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে একচেটিয়া ভাবে জয়ী হয়েছে তারা। খুলনা এবং রাজশাহী ডিভিশনের সবকটি সীমান্তবর্তী আসনে জামাতে ইসলামি জয়ী হয়েছে। এদিকে উত্তরবঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া রংপুর ডিভিশনে অবশ্য বিএনপি অধিকাংশ আসন জিতেছে। তবে কোচবিহার লাগোয়া নীলফামারি, গাইবান্ধা, রংপুর উপজেলায় আবার অধিকাংশ আসনে জামাতে ইসলামি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সারা দেশে বিএনপি জোটের ঝুলিতে ২১২টি আসন গিয়েছে। এদিকে জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে গিয়েছে ৭৭টি আসন।