Bangladeshi Hindus Rally in Dhaka: 'জঙ্গিবাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও', 'জয় শ্রীরাম' স্লোগানে উত্তাল ঢাকার রাজপথ
Bangladeshi Hindus: বিক্ষোভকারীরা হাতে মশাল, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শাহবাগ এলাকায় মিছিল করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল, রামের ছবির অবমাননার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
Bangladeshi Hindus: ঢাকার রাজপথে উঠল 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান। গাইবান্ধায় ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের প্রতিমা অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সনাতনী সংগঠন ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে শাহবাগ চত্বর কার্যত প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

বিক্ষোভকারীরা হাতে মশাল, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শাহবাগ এলাকায় মিছিল করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল, রামের ছবির অবমাননার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সেই মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে- 'কথায় কথায় বাংলা ছাড়,বাংলা কি তার বাপ দাদার?', 'আমার মাটি, আমার মা, বাংলাদেশ ছাড়ব না', 'এক দেশ দুই বিচার, চলবে না চলবে না'। এরই সঙ্গে মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে - 'জঙ্গিবাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও'।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেছে। কিন্তু বারবার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার মতো ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা বলেন, 'আমাদের এক দফা, এক দাবি—যারা ভগবান রামচন্দ্রের অবমাননা করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।'
বক্তাদের বক্তব্যে ক্ষোভের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আন্দোলনেরও ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল। তাঁরা জানান, এই প্রতিবাদ কেবল রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনে দেশের ৬৪ জেলায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বক্তারা বলেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ধর্মীয় প্রতীক ও উপাস্যদের অবমাননার ঘটনা কেবল একটি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও সরাসরি আঘাত। তাই বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে সরকারের উদ্দেশে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামও ঘোষণা করা হয়। বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁরা জানান, আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আগামী রবিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।
এদিকে শনিবার সারা দেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। শাহবাগের সমাবেশ থেকে সেই কর্মসূচিগুলোর প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবলমাত্র শ্রী রামের অবমাননার অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতার ইস্যুতে বিভিন্ন প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


