Bangladeshi infiltration: ‘পথ ভুলে’ ভারতের সীমান্তে! রাতে নৌকায় ঢুকে বিএসএফের হাতে ৫ বাংলাদেশি
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন পাট ব্যবসায়ী বাংলাবাজার এলাকায় পাট কিনতে গিয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে পাটবোঝাই নৌকায় ফেরার সময় রাত হয়ে যায়। সেই সময় অন্ধকারে নৌকার পথ ভুল হয়ে যায় এবং সেটি ভারতের সীমান্তসীমায় ঢুকে পড়ে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের সামনে এল অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন। অন্ধকারে নদীপথে ‘পথ ভুলে’ ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়ার দাবি করে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিন পাট ব্যবসায়ী এবং দুই নৌকার মাঝি। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার বাংলাবাজার সংলগ্ন নদীপথে। এদিকে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে ধরা পড়েছে এই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন পাট ব্যবসায়ী বাংলাবাজার এলাকায় পাট কিনতে গিয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে পাটবোঝাই নৌকায় ফেরার সময় রাত হয়ে যায়। সেই সময় অন্ধকারে নৌকার পথ ভুল হয়ে যায় এবং সেটি ভারতের সীমান্তসীমায় ঢুকে পড়ে। সেখানেই বিএসএফ সদস্যরা নৌকাটিকে আটক করে এবং পাঁচজনকে হেফাজতে নেয়।
‘পথ ভুল ভারতে’
রাতের অন্ধকারে নদীপথে দিক ভুল করে একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করা কতটা সহজ—এই ঘটনাকে ঘিরে এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ সীমান্তরেখা পেরিয়ে অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়া নিছক ‘পথ ভুল’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করার ঘটনায় একদিকে যেমন তাঁদের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সীমান্তে বিজিবির নজরদারির কার্যকারিতাও আলোচনায় এসেছে। এর আগে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, বিজিবি টাকা নিয়ে বাংলাদেশিদের সীমান্ত পারাপার করতে দেয়। এমনকী সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশিরা অনুপ্রবেশ করে এসে ভারতীয় কৃষকদের ফসল পর্যন্ত কেটে নিয়ে গিয়েছে। আর এই ক্ষেত্রে যদি সত্যিই অন্ধকারে নৌকাটি ‘পথ ভুলে’ ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে থাকে, তাহলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর নজরদারি ব্যবস্থাতেও ফাঁক থাকার অভিযোগ উঠতেই পারে।
কাঁটাতারে আপত্তি, খোলা সীমান্তে বাড়ছে ঝুঁকি?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে টানাপড়েন রয়েছে। ২০২৬ সালেও একাধিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় দিকে কাঁটাতার নির্মাণের উদ্যোগে বিজিবি আপত্তি জানিয়েছে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বিজিবির আপত্তির পর বিএসএফের কাঁটাতার নির্মাণকাজ থামানোর ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। অসমের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, কয়েক কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির আপত্তির কারণে কাঁটাতার নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—সীমান্তে কাঁটাতার নিয়ে আপত্তি করা হলে এবং বিভিন্ন অংশ খোলা থাকলে, অনুপ্রবেশের ঝুঁকি কি আরও বেড়ে যাচ্ছে? ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে দীর্ঘদিনের দাবি, স্পর্শকাতর এবং নদীঘেরা এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি সীমান্ত অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
পাঁচজন এখন ভারতের থানায়
আটকদের মধ্যে রয়েছেন বাঘার আলাইপুর এলাকার মোশারফ হোসেন (২২), শাহাবুল আলি (৪২), বাবর আলি (৪৫), আসাদুল ইসলাম (৪১) এবং সাইফুল ইসলাম (৫৮)। বাংলাদেশের আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মহম্মদ মুনসুর আলি জানিয়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠকের পরও পাঁচজনকে ফেরত দেয়নি বিএসএফ। জানানো হয়েছে, তাঁদের ভারতের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাতের অন্ধকারে ‘ভারত-ভ্রমণ’, শেষে বিএসএফের হেফাজত
তিন পাট ব্যবসায়ী আর দুই মাঝির গল্পটা তাই এখন সীমান্তের আলোচনায় বেশ ব্যতিক্রমী—পাট কিনতে গিয়ে রাতে নৌকায় ফিরছিলেন, আর অন্ধকারে নাকি এমনভাবে ‘পথ হারালেন’ যে সোজা ঢুকে পড়লেন অন্য দেশের সীমান্তে! তাঁদের দাবি সত্যি হলে প্রশ্ন উঠছে, রাতের নদীপথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেনার কোনও ব্যবস্থা ছিল না কেন? আর সীমান্তরক্ষীদের চোখ এড়িয়ে নৌকাটি এতটা এগিয়ে গেলই বা কীভাবে?
ঘটনার পর আটক ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে। তবে এই ঘটনাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল—সীমান্তে ‘পথ ভুলে’ ঢুকে পড়ার গল্প যতই সরল শোনাক, আন্তর্জাতিক সীমান্তে তার পরিণতি মোটেই সরল নয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


