Hindus in Bangladesh: বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত হিন্দু, শিক্ষকের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হল সিলেটে

বীরেন্দ্র কুমার দে নামক এক শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গোয়াইনঘাট উপজেলার নান্দিরগাঁও ইউনিয়নের বাহোর গ্রামে। স্থানীয় ভাবে বীরেন্দ্র কুমার দে 'ঝুনু স্যার' নামে পরিচিত। ঘটনায় পরিবারের কেউ হতাহত না হলেও তারা আতঙ্কিত।

Published on: Jan 16, 2026 10:15 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে ফের একবার আক্রান্ত হিন্দুরা। সিলেটে এক হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বীরেন্দ্র কুমার দে নামক এক শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গোয়াইনঘাট উপজেলার নান্দিরগাঁও ইউনিয়নের বাহোর গ্রামে। স্থানীয় ভাবে বীরেন্দ্র কুমার দে 'ঝুনু স্যার' নামে পরিচিত। ঘটনায় পরিবারের কেউ হতাহত না হলেও তারা আতঙ্কিত। পুলিশ এবং প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হয়েছে। তবে ইউনুস জমানায় বাংলাদেশি হিন্দুরা বিচারের আশা প্রায় ত্যাগ করেছেন।

বীরেন্দ্র কুমার দে নামক এক শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গোয়াইনঘাট উপজেলার নান্দিরগাঁও ইউনিয়নের বাহোর গ্রামে।
বীরেন্দ্র কুমার দে নামক এক শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গোয়াইনঘাট উপজেলার নান্দিরগাঁও ইউনিয়নের বাহোর গ্রামে।

এর আগে চট্টগ্রামে একাধিক হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরানো ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছে। পুলিশ অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের আগে দেশে সম্প্রীতি না থাকার দাবি প্রমাণ করতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নাকি হিন্দু বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এর আগে ইউনুস সরকারের তরফ থেকেও এই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সেখানকার হিন্দুরা।

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮-৯ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের অটোচালককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন জয় মহাপাত্র। এর আগে মিঠুন সরকার তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ছিলেন বিলে ঝাঁপ দিয়ে। তার আগে গত ৫ জানুয়ারি ২ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী নর‌সিংদী‌তে খুন করা হয় এক হিন্দু ব্যবসাীকে। মৃতের নাম শরৎ চক্রবর্তী ম‌ণি, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। নর‌সিংদীর পলাশ উপ‌জেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন তিনি। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিল মণির ওপর। ৫ জানুয়ারি যশোরে গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে। জানা যাচ্ছে, রানাকে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডেকে পাশে একটি ক্লিনিকের পাশে থাকা গলির মুখে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই রানাকে গুলি করা হয়। পরপর একাধিক গুলি চালায় আততায়ীরা। এছাড়া গত ২ জানুয়ারি খুন হয়েছিলেন সত্য রঞ্জন দাস। ৩ জানুয়ারি খুন হন মিলন দাস এবং সনু দাস। গত ৩১ ডিসেম্বরে হামলার শিকার খোকন চন্দ্র দাসেরও মৃত্যু হয় ৩ জানুয়ারি। ৪ জানুয়ারি খুন হন শুভ পোদ্দার। এর আগে ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডলের খুনের ঘটনা সামনে এসেছিল সেই দেশে।

এদিকে ২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সত্যরঞ্জন দাসের ৯৬ শতক জমির ধান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৩ জানুয়ারি ভোরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মিলন দাসের বাড়ির সবাইকে আটক করে ডাকাতি চালানো হয়েছিল। একই দিনে কুমিল্লার হোমনার সানু দাসের ঘরে যেখান থেকে ১০ ভরি সোনা, ১২ ভরি রুপো ডাকাতি করা হয়েছিল। ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে ৪০ বছরের এক হিন্দু বিধবা নারীকে ধর্ষণ করে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায়ের বাড়িতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয় এনসিপি নেতা তফসির ও তার সহযোগী মঞ্জুরুল আলম পুলিশের হাতে আটক হয়।

এর আগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছিল, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫১টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে সংখ্যালঘুদের ওপর। ডিসেম্বরে বাংলাদেশে হত্যা করা হয় ১০ জন হিন্দুকে। খুন হওয়া হিন্দুদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডল। তাঁদের নৃশংস খুনের ঘটনায় ভারতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছিল। এদিকে ডিসেম্বরে চুরি ও ডাকাতি ১০টি, বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-মন্দির ও জমিজমা দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ২৩টি ঘটনা রয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় অবমাননা ও র’র দালালের মিথ্যা অভিযোগে আটক ও নির্যাতন ৪টি, ধর্ষণ চেষ্টা ১টি, দৈহিক নির্যাতন ৩টি।