Bank Strike Update: টানা ৫ দিন ব্যাঙ্কের কাজ ব্যাহত হতে পারে, রবিবারও খুলবে শাখা! ধর্মঘটের আগে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের সব সরকারি ব্যাঙ্ক এবং রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক ওই রবিবার স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্কের শাখা, অফিস, এটিএম-সংযুক্ত শাখা এবং কারেন্সি চেস্ট খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। 

Published on: Sep 24, 2026, 12:26:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতি। ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠনগুলি। তার ঠিক আগে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার—সাধারণ ছুটি। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে চললে টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের শাখাভিত্তিক পরিষেবায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারত। সেই আশঙ্কা মাথায় রেখেই এ বার রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বরও ব্যাঙ্কের দরজা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতি।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতি।

অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের সব সরকারি ব্যাঙ্ক এবং রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক ওই রবিবার স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্কের শাখা, অফিস, এটিএম-সংযুক্ত শাখা এবং কারেন্সি চেস্ট খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। মূল লক্ষ্য, ধর্মঘট শুরু হওয়ার আগে সাধারণ মানুষকে জরুরি ব্যাঙ্কিং কাজ মিটিয়ে নেওয়ার বাড়তি সুযোগ দেওয়া।

ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স’ বা ইউএফবিইউ। সংগঠনটির দাবি, দেশের ব্যাঙ্কিং কর্মীদের বড় অংশই তাদের প্রতিনিধিত্ব করে। পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা এবং কর্মীদের অন্যান্য চাকরিসংক্রান্ত দাবির সমাধানের দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনার পরও ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে ইউনিয়নগুলি।

সমস্যা আরও বাড়ার কারণ ৩০ সেপ্টেম্বরই ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার অর্ধবার্ষিক আর্থিক হিসাব বন্ধের দিন। ফলে ধর্মঘটের শেষ দিনেই বছরের গুরুত্বপূর্ণ হিসাব-নিকাশের সময় পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রক ব্যাঙ্কগুলিকে আগে থেকেই জরুরি লেনদেন সামলে নেওয়া এবং এটিএমগুলিতে পর্যাপ্ত নগদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের বেতন, মজুরি এবং পেনশন স্বাভাবিক সময়ের বদলে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার থেকেই দেওয়া যেতে পারে বলে নির্দেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রক। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সাধারণত এই অর্থ মাসের শেষ দিকে দেওয়া হয়। কিন্তু এ বার ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্ত এবং মাসের শেষ দিনের আর্থিক কাজকর্ম একসঙ্গে পড়ায় আগেভাগেই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, ডাক এবং টেলিকম দফতরের কর্মীরাও এই ব্যবস্থার আওতায় থাকছেন।

তবে আগাম বেতন মানেই অতিরিক্ত টাকা নয়। পুরো মাসের বেতন বা পেনশনের চূড়ান্ত হিসাব হওয়ার পরে কোনও সমন্বয় দরকার হলে তা অক্টোবরের পাওনা থেকে কেটে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত অন্যান্য সরকারি পেমেন্ট ও ব্যাঙ্কিং লেনদেনও সম্ভব হলে আগে করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদেরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করার পরামর্শ দিচ্ছে ব্যাঙ্কগুলি। চেক জমা, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন, অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত শাখাভিত্তিক কাজ বা অন্য কোনও জরুরি পরিষেবা প্রয়োজন হলে ২৭ সেপ্টেম্বরের আগেই তা সেরে ফেলা ভাল। রবিবার শাখা খোলা থাকায় সেই দিনটিও একটি অতিরিক্ত সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

অন্য দিকে, ধর্মঘট চলাকালীন মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ইউপিআই এবং এটিএমের মতো ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে পারে। তাই ধর্মঘটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রাখাই নিরাপদ।

সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে বড় চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে রবিবার ব্যাঙ্ক খুলে রাখা এবং সরকারি কর্মীদের আগাম বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেই ধাক্কা কিছুটা কমানোর চেষ্টা হলেও, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More