Barcelona alleges against PSG: পিএসজির ‘ম্যাসাকার’ ব্যানার নিয়ে উয়েফায় অভিযোগ বার্সেলোনার, ১০০০০ ইউরো জরিমানার আশঙ্কা
২০ অক্টোবর প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি ও বার্সেলোনা। ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে বিশাল একটি ব্যানার মেলে ধরেন পিএসজি সমর্থকেরা। তাতে দেখা যায়, পিএসজির জার্সি পরা এক মুখোশধারী ব্যক্তি করাতের মতো দেখতে একটি যন্ত্র দিয়ে বার্সেলোনার প্রতীক কাটছেন।
মাঠে হার। তার পর মাঠের বাইরেও বিতর্কে জড়াল বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে পিএসজি সমর্থকদের প্রদর্শিত একটি বিতর্কিত ব্যানার নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফার দ্বারস্থ হয়েছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবের অভিযোগ, ব্যানারে এমন ছবি ও বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, যা ফুটবলের পরিবেশে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়াতে পারে। এই ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে পিএসজি। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার এই ধরনের অপরাধের জন্য ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

কী ছিল সেই ব্যানারে?
২০ অক্টোবর প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি ও বার্সেলোনা। ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে বিশাল একটি ব্যানার মেলে ধরেন পিএসজি সমর্থকেরা। তাতে দেখা যায়, পিএসজির জার্সি পরা এক মুখোশধারী ব্যক্তি করাতের মতো দেখতে একটি যন্ত্র দিয়ে বার্সেলোনার প্রতীক কাটছেন। যন্ত্রটি ছিল রক্তমাখা। তার নিচে লেখা ছিল, ‘ম্যাসাকার আ লা প্যারিজিয়েন’। যার অর্থ, ‘প্যারিসীয় কায়দায় গণহত্যা’। ব্যানারের সামনে আতসবাজি ব্যবহার করে এমন আবহ তৈরি করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় যন্ত্রটি দিয়ে কাটার সময় আগুনের ফুলকি ছিটকে বেরোচ্ছে।
বার্সেলোনার আপত্তি ঠিক কোথায়?
বার্সেলোনার বক্তব্য, এই ধরনের ছবি শুধু প্রতিপক্ষকে বিদ্রুপ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা খেলাধুলায় হিংসা ও ঘৃণাকে উসকে দিতে পারে। ক্লাবের মতে, ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা হলেও সেখানে পারস্পরিক সম্মান, খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি। হিংসাত্মক ছবি বা উসকানিমূলক ভাষা সেই পরিবেশ নষ্ট করে।
বিতর্কিত ব্যানারের পাশাপাশি গ্যালারি থেকে কয়েকটি আপত্তিকর স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বার্সেলোনা ওই ব্যানার এবং আপত্তিকর স্লোগানের বিষয়টি ম্যাচের দায়িত্বে থাকা উয়েফার প্রতিনিধিকে জানিয়েছে। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছে স্পেনের ক্লাবটি।
পিএসজির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যানারটি প্রদর্শনের আগে পিএসজি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে সমর্থকদের আচরণের পাশাপাশি ক্লাব কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পিএসজির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। উয়েফাও এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
শাস্তি হতে পারে পিএসজির?
উয়েফার শৃঙ্খলাবিধিতে খেলাধুলার পরিবেশের অনুপযুক্ত কোনও উসকানিমূলক বার্তা, অঙ্গভঙ্গি বা বস্তু প্রদর্শনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্থান রয়েছে। প্রথমবার এই ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে পিএসজির বিরুদ্ধে আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করছে উয়েফার পর্যালোচনার উপর।
মাঠের লড়াইয়েও অবশ্য কম উত্তেজনা ছিল না। দু’বার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে সমতা ফিরিয়েছিল হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। কিন্তু শেষ দিকে ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইজের গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি। এই হারের ফলে মরসুমে প্রথমবার পরাজয়ের মুখ দেখে বার্সেলোনা। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে পিএসজি সমর্থকদের বিতর্কিত ব্যানার। প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে হিংসাত্মক বার্তা প্রদর্শনের সীমা কোথায়, সেই প্রশ্নই এবার উঠছে ইউরোপীয় ফুটবলে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


