Pawan Khera's home:মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড়! অসম পুলিশের তল্লাশির মাঝেই কংগ্রেস নেতার বাড়িতে ব্যারিকেড

Pawan Khera's home: মঙ্গলবার দিল্লির নিজামুদ্দিনে পবন খেরার নিজামুদ্দিন পূর্বের বাসভবনে পৌঁছে যায় অসম পুলিশের চার সদস্যের একটি দল। দিল্লি পুলিশ তাদের সহায়তা করে।

Published on: Apr 8, 2026, 23:52:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Pawan Khera's home: রাত পোহালেই অসমে ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগে বিতর্কের ঝড়। কেন্দ্রবিন্দুতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা। রবিবার কংগ্রেস নেতা তথা দলের মিডিয়া সেলের চেয়ারম্যান পবন খেরা দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে তিনটি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। তাঁর নামে বিদেশি সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। পাল্টা পবন খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী। তার ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেস নেতার বাসভবনে হানা দেয় অসম পুলিশ। দিল্লি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে চলে তল্লাশিও। কিন্তু ডেপুটি পুলিশ কমিশনার দেবজিৎ নাথের নেতৃত্বে তল্লাশির সময় পবন খেরা বাড়িতে ছিলেন না। আর তারপর থেকেই অসম পুলিশের অন্দরে যেন প্রশ্ন উঠছে, পবন খেরা কোথায়?

অসম পুলিশের তল্লাশির মাঝেই কংগ্রেস নেতার বাড়িতে ব্যারিকেড (PTI)
অসম পুলিশের তল্লাশির মাঝেই কংগ্রেস নেতার বাড়িতে ব্যারিকেড (PTI)

কংগ্রেস নেতাকে সর্বশেষ ৫ এপ্রিল জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। একই দিনে সাংবাদিক বৈঠক করে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মার তিনটি পাসপোর্ট রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন খেরা। কংগ্রেস নেতার দাবি ছিল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা এবং মিশরের পাসপোর্ট রয়েছে হিমন্তের অর্ধাঙ্গীনির নামে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রিনিকি দেবীর নামে দুবাইয়ে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি এবং আমেরিকায় একটি সংস্থা রয়েছে, যা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। অসম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে খেরার মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়। হাত শিবিরের আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগেন অসমের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কংগ্রেস নেতার অভিযোগকে 'ভুয়ো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে উড়িয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতা পবন খেরার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করারও হুঁশিয়ারি দেন হিমন্ত।

এরপরই মঙ্গলবার দিল্লির নিজামুদ্দিনে পবন খেরার নিজামুদ্দিন পূর্বের বাসভবনে পৌঁছে যায় অসম পুলিশের চার সদস্যের একটি দল। দিল্লি পুলিশ তাদের সহায়তা করে। খেরার জন্য সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পুলিশ। পরে পুলিশের তরফে জানানো হয়, খেরাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় হায়দরাবাদে ছিলেন পবন খেরা। প্রায় দুই ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানের পর পুলিশ কংগ্রেস নেতার বাড়ি থেকে কিছু ‘আপত্তিকর’ নথি উদ্ধার করে। কিন্তু ইলেকট্রনিক ডিভাইসও সঙ্গে নিয়ে চলে যায়। সোমবার অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর দায়ের করা এফআইআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তবে বুধবার অসম পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখনও পবন খেরাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এদিকে, হায়দরাবাদে পুলিশ বানজারা হিলসে পবন খেরা ও তাঁর স্ত্রী নীলিমার বাড়ির বাইরে ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে। নগর পুলিশের সূত্রে খবর, অসম পুলিশ এখনও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা আরও বলেছেন, অসম পুলিশ এসে নোটিশ দিলে তারা সহযোগিতা করবেন।

এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারি এড়াতে পবন খেরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে খবর। মঙ্গলবারই সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'গতকাল তিনি গুয়াহাটি থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আমি সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পেরেছি যে দিল্লিতে তাঁর বাসভবনে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তিনি হায়দরাবাদে পালিয়েছেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমা পবন খেরাকে পবন পেড়া করে ছাড়ব।' অন্যদিকে, কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিশোধমূলক রাজনীতি’ বলে অভিযোগ করেছে। দলের নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, এই তল্লাশির কোনও আইনি ভিত্তি নেই এবং বিরোধীদের ভয় দেখাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার অসমে এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। তার ঠিক আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।