Belfast protest: বাড়ি-গাড়িতে আগুন! অভিবাসী বিরোধী বিক্ষোভের আঁচে পুড়ছে বেলফাস্ট

Belfast protest: উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন ঘটনাটিকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, 'গত রাতের হত্যাচেষ্টার ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয়, ক্ষোভসহ নানা ধরনের অনুভূতির জন্ম দিতে পারে।'

Published on: Jun 11, 2026 5:12 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Belfast protest: ছুরিকাঘাতের এক ঘটনার জেরে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্র উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্ট। মঙ্গলবার কয়েকশো বিক্ষোভকারী শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে বাস, গাড়ি ও একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এ সময় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

অভিবাসী বিরোধী বিক্ষোভের আঁচে পুড়ছে বেলফাস্ট (AP)
অভিবাসী বিরোধী বিক্ষোভের আঁচে পুড়ছে বেলফাস্ট (AP)

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেখানে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে তাণ্ডব চালায়। তারা বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, একটি যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার এবং রাস্তায় দেওয়া ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। শুধু বেলফাস্টই নয়, এর পাশ্ববর্তী নিউটাউনঅ্যাবি এবং কিলকিল এলাকাতেও বেশ কিছু গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পূর্ব বেলফাস্টের একটি সড়কে প্রায় ১০০ জনের একটি দল বাড়িঘরে হামলা চালায়, দরজা ভাঙচুর করে এবং জানালার কাচ নষ্ট করে। এ সময় একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে, লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ার এলাকায়ও কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করে।

উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন ঘটনাটিকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, 'গত রাতের হত্যাচেষ্টার ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয়, ক্ষোভসহ নানা ধরনের অনুভূতির জন্ম দিতে পারে। তবে আমি সবাইকে শান্ত থাকার এবং সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।' পুলিশের তথ্যমতে, ৪০ বছর বয়সি ভুক্তভোগীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং মুখ ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন সাধারণ মানুষ হামলাকারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দ্রুত পদক্ষেপকে আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সুদানি নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র বহন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে বুধবার বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হবে। তদন্তে জানা গেছে, আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন করার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি পান। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে বাসে করে বেলফাস্টে আসেন। এর আগে তিনি প্যারিস থেকে ডাবলিনে পৌঁছেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের প্রধান কনস্টেবল জন বাউচার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ডাটাবেজে এই ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি এবং তিনি পুলিশের কাছেও পূর্বপরিচিত ছিলেন না। এদিকে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা যৌথ বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে এ হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তারা শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সহিংসতা ও অস্থিরতা কেবল স্থানীয় সম্প্রদায়েরই ক্ষতি করবে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল। এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মুখোশধারীরা সাধারণ পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করছে, যা সম্পূর্ণ নিরেট সন্ত্রাসী আচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তিনি এই ধরনের বর্ণবাদ, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বর্বরোচিত সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, ব্রিটেনের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ছুরিকাঘাত ও পরবর্তী সহিংস কর্মকাণ্ডের ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং বর্ণবাদী সহিংসতা রুখতে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।