Rape Case against Shami's Brother: ক্রিকেটার মহম্মদ শামির ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে, খেলেন বাংলার হয়ে
অভিযোগকারীর দাবি, বিয়ের জন্য চাপ দিলে কাইফ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ২০২৫ সালের আইপিএল নিলামের পর বিয়ে করবেন। নিলাম হয়ে যাওয়ার পরও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিয়ের বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁকে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি কাইফের সঙ্গে তাঁর ভাই হাশিব এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও দেখতে পান।
Rape Case against Shami's Brother: ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামির ভাই মহম্মদ কাইফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে লখনউয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। এক তালাকপ্রাপ্ত মহিলার অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি ছাড়তে চাপ দেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় কাইফের ভাই হাশিবের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। উল্লেখ্য, শামির মত কাইফও বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লখনউয়ের আশিয়ানা থানায় রবিবার রাতে কাইফ ও হাশিবের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, হুমকি-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারী মহিলা জানিয়েছেন, ২০২০ সালে এনসিআর এলাকায় তাঁর সঙ্গে কাইফের পরিচয় হয়। তখন তিনি স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর নিজের ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং কাইফ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
মহিলার দাবি, তাঁর অতীত এবং পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পরেও কাইফ তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাইফের কথায় তিনি কলকাতায় যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একটি হোটেলে তাঁকে রাখা হয় এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এরপরও বিয়ের বিষয়ে বারবার সময় নেওয়া হতে থাকে। মহিলার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গা ও হোটেলে নিয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে একইভাবে যৌন নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, বিয়ের জন্য চাপ দিলে কাইফ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ২০২৫ সালের আইপিএল নিলামের পর বিয়ে করবেন। নিলাম হয়ে যাওয়ার পরও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিয়ের বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁকে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি কাইফের সঙ্গে তাঁর ভাই হাশিব এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও দেখতে পান। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এরপর মহিলা লখনউয়ের আশিয়ানা এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। তাঁর দাবি, গত ৩১ আগস্ট তিনি আশিয়ানা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ প্রথমে ঘটনাগুলি লখনউয়ের বাইরে এবং অন্য রাজ্যে ঘটেছে উল্লেখ করে মামলা নিতে অস্বীকার করে। পরে তিনি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁদের নির্দেশের পর রবিবার রাতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারিণী আরও দাবি করেছেন, তিনি ২০২৩ সালে একটি বিমান সংস্থায় কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু কাইফ তাঁর চাকরি করা পছন্দ করতেন না। তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ২০২৬ সালে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর থেকে তিনি বেকার এবং আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।
মহিলার আরও অভিযোগ, গত ১৯ মে তাঁকে আমরোহায় কাইফের পরিবারের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে কাইফের ভাই হাশিব এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। তাঁকে বলা হয়, কাইফ তাঁকে বিয়ে করবেন না এবং পরিবারের বিরুদ্ধে তিনি কিছুই করতে পারবেন না।
এছাড়াও, নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা একটি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর কাইফ তাঁকে ডেকে পডকাস্টের বক্তব্য সরিয়ে দিতে চাপ দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন, সেটি সরিয়ে নিলে তিনি বিয়ে করবেন। পরে সেই বক্তব্য সরিয়ে দেওয়ার পরও কাইফ তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন বলে অভিযোগ।
আশিয়ানা থানার ইনস্পেক্টর গজেন্দ্র রায়ের বক্তব্য, মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে কাইফ ও তাঁর ভাই হাশিবের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে। সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


