Richa Ghosh on India Winning Asia Cup: রেকর্ড অষ্টম এশিয়া কাপ জয় ভারতের, ফাইনালের পরিবেশে মুগ্ধ বাঙালি তারকা রিচা ঘোষ

রিচার বক্তব্যে উঠে এসেছে ফাইনালের চাপের মধ্যেও দলের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল মানসিকতা। তাঁর মতে, প্রত্যেক ক্রিকেটারকে দলের দেওয়া নির্দিষ্ট ভূমিকা অনুযায়ী খেলতে হয়েছে। নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী কিছু রান যোগ করতে পারলে সেটাই দলের কাজে আসে। সেই জায়গা থেকে নিজের ভূমিকা পালন করতে পেরে খুশি বাংলার তারকা।

Published on: Sep 14, 2026, 12:46:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে ২০২৬ মহিলা এশিয়া কাপের খেতাব জিতল ভারত। এই জয়ের সঙ্গে রেকর্ড অষ্টমবার এশিয়া কাপ নিজেদের ঘরে তুলল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ফাইনালে একতরফা দাপট দেখাল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানালেন বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষ।

রিচার বক্তব্যে উঠে এসেছে ফাইনালের চাপের মধ্যেও দলের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল মানসিকতা। (AFP)
রিচার বক্তব্যে উঠে এসেছে ফাইনালের চাপের মধ্যেও দলের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল মানসিকতা। (AFP)

ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে। ইনিংসের শুরুতেই বড় রানের ভিত গড়ে দেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মন্ধানা। দুই ওপেনারের অর্ধশতরানের ইনিংস ভারতের স্কোরকে দ্রুত এগিয়ে দেয়। শেফালি করেন ৬৮ রান এবং মন্ধানার ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। তাঁদের জুটির সুবাদে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ভারতের হাতে।

তবে ইনিংসের মাঝপথে উইকেট কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়ায় ব্যাটিংয়ের গতি খানিকটা কমে যায়। রিচা ঘোষও ম্যাচের পর সেই বিষয়টির কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শুরুতে বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটের চরিত্র বদলে যায়। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েই ভারতীয় ব্যাটারদের রান তুলতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৮৩ রানের লড়াইয়ের মতো স্কোর দাঁড় করাতে সফল হয় ভারত।

রিচার বক্তব্যে উঠে এসেছে ফাইনালের চাপের মধ্যেও দলের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল মানসিকতা। তাঁর মতে, প্রত্যেক ক্রিকেটারকে দলের দেওয়া নির্দিষ্ট ভূমিকা অনুযায়ী খেলতে হয়েছে। নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী কিছু রান যোগ করতে পারলে সেটাই দলের কাজে আসে। সেই জায়গা থেকে নিজের ভূমিকা পালন করতে পেরে খুশি বাংলার এই তারকা ক্রিকেটার।

ভারতের বড় স্কোরের জবাবে অবশ্য শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ একেবারেই দাঁড়াতে পারেনি। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে মাত্র ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন শ্রী চরণী। মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন চারটি উইকেট। দীপ্তি শর্মাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার আশা শেষ করে দেন।

ফাইনালের ফলাফল যেমন ভারতীয় দলের আধিপত্য স্পষ্ট করেছে, তেমনই গ্যালারির পরিবেশও রিচার ঘোষদের বাড়তি উৎসাহ দিয়েছে। ম্যাচের পর রিচা বলেন, ভারতীয় সমর্থকরা যেভাবে মাঠে এসে দলকে সমর্থন করেছেন, তা অসাধারণ অনুভূতি তৈরি করেছিল। তাঁদের গলা ফাটানো সমর্থন দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।

একটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ঘরের মাঠের মতো সমর্থন পাওয়া যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, রিচার কথাতেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং মাঠে ক্রিকেটারদের আগ্রাসী মনোভাব—দুইয়ের মিলেই ফাইনাল হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়।

রেকর্ড অষ্টম এশিয়া কাপ জয়ের পর অবশ্য এখনই উদযাপনের পরিকল্পনা করেননি রিচা। তাঁর কথায়, ম্যাচ সবে শেষ হয়েছে, তাই এই মুহূর্তে সেলিব্রেশন নিয়ে ভাবার সময়ই পাওয়া যায়নি। পরে দলের সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই উদযাপনের পরিকল্পনা করা হবে।

তবে পরিকল্পনা পরে হলেও সাফল্যের আনন্দ শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্যাটে শেফালি-মন্ধানার দাপট, বল হাতে শ্রী চরণী-দীপ্তিদের দুরন্ত পারফরম্যান্স এবং পুরো দলের সম্মিলিত লড়াইয়ে ভারত ফের এশিয়ার সেরা। আর সেই ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী হয়ে বাংলার রিচা ঘোষের মুখেও ধরা পড়ল গর্ব এবং আনন্দ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More