Oskar Klein Medal: এই সম্মান পেয়েছিলেন হকিং! প্রথম ভারতীয় হিসাবে সেই ‘অস্কার ক্লেইন মেডেল’ পেলেন বিজ্ঞানী অশোক সেন
Oskar Klein Medal: বর্তমানে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ-এর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসে কর্মরত বিজ্ঞানী অশোক সেন। তিনি বিশ্বজুড়ে ‘স্ট্রিং থিওরি’-র অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত।
Oskar Klein Medal: আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞানের মঞ্চে ফের উজ্জ্বল বাঙালি মুখ। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘অস্কার ক্লেইন মেডেল’ পেলেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন। স্টিফেন হকিং ও পিটার হিগসের মতো বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরাও অতীতে এই সম্মান পেয়েছেন।

বর্তমানে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ-এর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসে কর্মরত বিজ্ঞানী অশোক সেন। তিনি বিশ্বজুড়ে ‘স্ট্রিং থিওরি’-র অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত। পদার্থবিজ্ঞানের এই শাখা একটিই সমন্বিত তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সমস্ত রহস্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। আর এই গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরেই অশোক সেন এক অতি পরিচিত নাম। তাই এবার এই সম্মানে ভূষিত হলেন তিনি। আইসিটিএসের পরিচালক রাজেশ গোপাকুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'অতীতের প্রাপকদের তালিকার দিকে তাকালেই বোঝা যায়, এই পুরস্কারটি কতটা মর্যাদাপূর্ণ। এই স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে অশোক সেনের অবস্থানকে যথার্থভাবে তুলে ধরল।'
সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের পদার্থবিদ্যা নোবেল কমিটি যৌথভাবে প্রতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ হিসেবে এই বিরল সম্মান অর্জন করে অশোক সেন দেশের বিজ্ঞান গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন। তাঁর এই কৃতিত্বের কথা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করেছে বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেস (আইসিটিএস)।ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সম্মানজনক এই পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় অতীতে নাম রয়েছে চেন-নিং ইয়াং, স্টিভেন ওয়াইনবার্গ এবং হ্যান্স বেথের মতো প্রখ্যাত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীদের। সুইডিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অস্কার ক্লেইনের নামাঙ্কিত এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা ১৯৮৮ সালে প্রথম চালু হয়।
১৯৫৬ সালে কলকাতায় জন্ম অশোক সেনের। শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে বিএসসি এবং আইআইটি কানপুরে এমএসসি করেন। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। স্ট্রিং থিওরির গবেষণায় তাঁর অবদান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৯৯৯ সালে তাঁর দ্বারা মনোনীত হয়েই অশোক রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপ পান। পরবর্তী সময়ে গবেষক হিসেবে তিনি সারা বিশ্বের স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০০১ সালে পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন। ২০১৩ সালে পদ্মভূষণ। ২০১২ সালে পান ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স প্রাইজ। নোবেল পুরস্কারের চেয়েও প্রায় তিন গুণ বেশি অর্থমূল্যের এই পুরস্কার জেতার পর এবার তিনি পেলেন অস্কার ক্লেন মেডেল। তবে এমন বিপুল সম্মান ও স্বীকৃতির পরও তাঁর পা রয়ে গিয়েছে মাটিতেই। সাইকেলেই যাতায়াত করেন প্রয়াগরাজের হরিশচন্দ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটে। বিনয়ী, মৃদুভাষী মানুষটি সাধারণ জীবনযাপন করেন আজও। মাটিতে পা রেখেই সত্তর বছরের মানুষটির নজর স্থির মহাবিশ্বের সামগ্রিক রহস্যেই।
E-Paper

