Benjamin Netanyahu at UN: ইরানে 'খুনে স্বৈরশাসন' থেকে নিশানায় মামদানি! UN-এ গর্জে উঠলেন নেতানিয়াহু, এড়ালেন ICC পরোয়ানা

Benjamin Netanyahu at UN: নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ইজরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে অবস্থানকে ঘিরে ফের সরব হয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

Published on: Sep 25, 2026, 11:34:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Benjamin Netanyahu at UN: রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) ভাষণ দেওয়ার পরপরই নিউইয়র্ক ছাড়লেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই দিন নিউইয়র্কে পৌঁছে ভাষণ দেওয়ার পর সরাসরি ইজরায়েলের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে আট ঘণ্টারও কম সময় কাটিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করতে বাধ্য এমন তিনটি দেশের আকাশসীমা পেরিয়ে বিমানে উড়ে যান তিনি। আর এই গোটা সময় জুড়েই তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায়।

UN-এ গর্জে উঠলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (AP Photo/Seth Wenig)
UN-এ গর্জে উঠলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (AP Photo/Seth Wenig)

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং অ্যাপ ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ (Flightradar24)-এর তথ্য অনুযায়ী, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিমান গ্রিস, ইতালি এবং ফ্রান্সের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে। এই তিনটি দেশই রোম সংবিধির (Rome Statute) স্বাক্ষরকারী পক্ষ—যে চুক্তির মাধ্যমে দ্য হেগ-ভিত্তিক আইসিসি গঠিত হয়েছিল এবং যার অধীনে সদস্য দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে বাধ্য। বৃহস্পতিবার ফ্রান্স জানিয়েছে, এই বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তার মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময় বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেফতার করবেন। মঙ্গলবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা তাঁর নেই। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি পরোয়ানা সম্মান করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিউইয়র্কে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ নিউইয়র্কে পৌঁছান নেতানিয়াহু এবং ভাষণের পর দিনের শেষভাগেই তাঁর ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দুই ইজরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি এই শহরে আট ঘণ্টারও কম সময় কাটাবেন, যার মধ্যে সাধারণ পরিষদে তাঁর বক্তব্য রাখতেই প্রায় ৪০ মিনিট সময় ব্যয় হয়। তাঁর ভাষণ চলাকালীন বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা ওয়াকআউট করলে নেতানিয়াহু বলেন, 'যদি এখনও এই সভাকক্ষে কোনও নৈতিকভাবে কাপুরুষ ব্যক্তি থেকে থাকেন, তাহলে দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান।' পাশাপাশি, গাজায় ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগকে ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মামদানি বলেছেন, ‘কোনও মিথ্যাই এই সত্য পরিবর্তন করতে পারবে না যে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন, যেখানে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।’

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিশানায় জোহরান মামদানি

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ইজরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে অবস্থানকে ঘিরে ফের সরব হয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। একইসঙ্গে তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ইজরায়েলের গাজা অভিযান নিয়ে ‘মিথ্যা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন।

রাষ্ট্রসংঘে বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক ইহুদি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্ককে তাঁরা আগের মতো মনে করছেন না। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ইহুদিরা তাঁকে বলেছেন, 'এটা আমাদের মনে থাকা শহর নয়, শহরটা খুব দ্রুত বদলে গিয়েছে।' তবে নিউইয়র্কের কতজন ইহুদি এমন মনে করছেন, সেই বিষয়ে নেতানিয়াহু কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সমীক্ষার তথ্য দেননি। নেতানিয়াহু মামদানিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা আমাকে এখানে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, আমাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জেনে রাখুন, আপনারা আমাকে থামাতে পারবেন না; সত্যকে কোনওভাবেই দমিয়ে রাখা যায় না।’

ইরানের নেতৃত্বের পতন ‘দূরে নয়’

রাষ্ট্রসংঘে ইরানের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানে ‘খুনে স্বৈরশাসন’ চলছে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ইরানের খুনে স্বৈরশাসনকে বোমা তৈরি করা থেকে বিরত রাখার অঙ্গীকার করেছিলাম।’ তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের পতন ‘দূরে নয়।’ রাষ্ট্রসংঘে ইরানের দূত যে খালি ডেস্কে নিহত কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির একটি ছবি রেখেছিলেন, সেটির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এত হামলার পরও ইরান সরকার ক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়ে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে।

কাতার ও তুরস্কের মিথ্যা অপপ্রচার?

একইসঙ্গে নেতানিয়াহু কাতার ও তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েল নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তোলেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি আঙ্কারার বিরুদ্ধে হামাস নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, এসব দেশই ঔপনিবেশিকতার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিকতার অভিযোগকে ‘আরেকটি মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।